ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় সাহায্য পৌঁছানো অসম্ভব, তাই মিশরীয়রা সমুদ্রে ভাসাচ্ছে বোতলভর্তি খাবার!


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৮ জুলাই, ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম

গাজায় সাহায্য পৌঁছানো অসম্ভব, তাই মিশরীয়রা সমুদ্রে ভাসাচ্ছে বোতলভর্তি খাবার!

গাজাবাসীর জন্য খাবার পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মিশরের সাধারণ মানুষ বোতলে চাল, আটা ও বেবি ফুড ভরে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিচ্ছেন। আশা, স্রোতে ভেসে তা গাজায় পৌঁছাবে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, মিশরীয়রা বোতলে শুকনো খাবার ভরে ভূমধ্যসাগরে ছুড়ে দিচ্ছেন। গাজার দিকে স্রোতের প্রবাহ থাকায় তাদের বিশ্বাস, বোতলগুলো গাজায় পৌঁছাতে পারে।

গাজার মানুষ দিনের পর দিন খাদ্য সংকটে ভুগছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সীমিত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষও মানবিক সহায়তার জন্য উদ্বিগ্ন। বোতলে খাবার ভাসানোর এই প্রচেষ্টা তারই প্রতিফলন।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ট্রাকে সীমিত সহায়তা দেওয়া শুরু করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

গত কয়েক মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯০% জনগণ খাদ্য insecurity-তে ভুগছে। শিশুদের অপুষ্টির হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার গাজায় জরুরি সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানালেও বাস্তবে তার প্রভাব সীমিত। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ নেটিজেনদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

মিশর সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করে গাজায় সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে, রাফাহ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জটিলতার কারণে সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গাজার বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করলেও সহিংসতা ও অবরোধের কারণে তাদের কার্যক্রমও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের এই ছোট্ট প্রচেষ্টাও আশার আলো দেখাচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যাতে গাজায় খাদ্য বিতরণ করা যায়। তবে, স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

গাজার শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নেই। অনেক পরিবার দিনে একবেলা খেয়ে জীবনধারণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বোতলভর্তি খাবারের এই প্রচেষ্টা অন্তত মানবিক সংহতির বার্তা দিচ্ছে।

নেটিজেনরা এই ভিডিও দেখে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন। অনেকে লিখেছেন, "মানুষ যখন সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উপর আস্থা হারায়, তখনই এমন স্বতঃস্ফূর্ত মানবিকতা জন্ম নেয়।"

গাজার সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ বাড়ানো জরুরি। তবে, সাধারণ মানুষের এই ছোট্ট উদ্যোগও প্রমাণ করে, মানবতা কোনো সীমানা চেনে না।