মৌসুমী আক্তার . | প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৫, ১১:০৮ পিএম
একদিকে ভারতকে ২৫% শুল্কে চাপে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে তাঁর ‘বন্ধু’ ব্রাজিলকে দিয়েছেন আরও বড় ধাক্কা— চাপিয়েছেন একেবারে ৫০ শতাংশ শুল্ক! এমন অবিচারে বেজায় চটে গিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা। তাঁর সাফ কথা— “ট্রাম্পকে ফোন করব না, মোদি বা শি জিনপিংকে ফোন করাই ভালো।”
হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেখানে বলছেন, “লুলা চাইলে আমাকে ফোন করে শুল্ক নিয়ে কথা বলতে পারেন”— সেখানে লুলা দা সিলভার সোজাসাপটা জবাব, “আমি ট্রাম্পকে ফোন করতে চাই না। কারণ উনি কথা বলতেই চাইছেন না!”
লুলা এই শুল্ক চাপানোর দিনটিকে বলেছেন, “আমার জীবনের অন্যতম আক্ষেপের দিন।” তাঁর মতে, ব্রাজিলকে অপমান করা হয়েছে।
এই অবস্থায় তিনি ভরসা রাখছেন ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর শক্তির ওপর। বলেছেন, “আমি মোদিজিকে ফোন করব। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকেও ফোন করব। পুতিনকে অবশ্য ফোন করব না, কারণ ওঁর যাতায়াতের সমস্যার কারণে তা সম্ভব নয়। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে কথা বলব।”
লুলার এই বক্তব্য থেকে একেবারে পরিষ্কার— তিনি ব্রিকস গোষ্ঠীকে সামনে রেখে আমেরিকার বিরুদ্ধে একটা বড় জোট গড়ে তুলতে চাইছেন।
এই গোষ্ঠীতে রয়েছে:
ভারত
ব্রাজিল
চিন
রাশিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকা
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
মিশর
ইথিওপিয়া
ইরান
সম্প্রতি রিও ডি জেনেইরোতে ব্রিকস সম্মেলন হয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে ছয়টি সদস্য দেশ যোগ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের মনোভাব আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
ট্রাম্প বহুদিন ধরেই ব্রিকসের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে এই গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব আমেরিকার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সেই প্রেক্ষিতে লুলার এই মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক স্টেটমেন্ট নয়— এটি হতে পারে ভবিষ্যতের নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত।