এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম
ইসরায়েল গাজা দখল করে সেখানে নিজেদের প্রশাসন চালাবে না—এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস বিরোধী সামরিক অভিযান শেষ হলে, এই ফিলিস্তিনি উপত্যকার দায়িত্ব নিতে আরব প্রতিবেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার Fox News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইসরায়েল কি গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়? জবাবে তিনি বলেন, “আমরা সেখানে হামাসকে নির্মূল করতে চাই, জনগণকে মুক্ত করতে চাই, এবং এমন একটি বেসামরিক সরকারকে দায়িত্ব দিতে চাই—যারা হামাস নয়, এবং যারা ইসরায়েল ধ্বংসের পক্ষেও নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গাজা নিজেদের রাখতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। আমরা সেখানে শাসক হিসেবে থাকতে চাই না। বরং আমরা চাই, গাজা শাসন করুক এমন আরব শক্তি যারা এটি সঠিকভাবে চালাতে পারবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত গাজার নিয়ন্ত্রণ ছিল ইসরায়েলের হাতে। পরে একতরফাভাবে তারা অঞ্চলটি থেকে সরে আসে।
তবে চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের একাধিক গণমাধ্যমে খবর আসে, নেতানিয়াহু তাঁর মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে গাজা পুরোপুরি দখলের একটি পরিকল্পনার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবেন—যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হামাস ও ইসরায়েল একটি তিন ধাপের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, মার্চেই তা ভেঙে পড়ে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝে আলোচনা হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এদিকে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পরিকল্পনা দেন, যেখানে গাজার বাসিন্দাদের ধনী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে স্থানান্তরের প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেয় একাধিক আরব দেশ এবং রাশিয়া।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস হঠাৎ করে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়, যাতে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। এর পর থেকেই শুরু হয় ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযান। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬০,০০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ।
জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং একাধিক ইউরোপীয় দেশ ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। সেইসঙ্গে তারা গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে।