ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজা গিলে ফেলবে ইজরায়েল! নেতানিয়াহুর ‘নীলনকশা’ পায় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

গাজা গিলে ফেলবে ইজরায়েল! নেতানিয়াহুর ‘নীলনকশা’ পায় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত

ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) ইতিমধ্যেই গাজার ৭৫ শতাংশ দখল করেছে, আর এবার গোটা গাজা দখলের পরিকল্পনায় সবুজ সংকেত পেয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ‘নীলনকশা’ অনুযায়ী গাজাকে সম্পূর্ণ দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে মন্ত্রিসভা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি এই পরিকল্পনাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। তবে গোটা মন্ত্রিসভা এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী রবিবারের পর এই অনুমোদন আসতে পারে।

এর আগে নেতানিয়াহু একাধিকবার গাজা দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি তিনি সেনাবাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, “গাজা সম্পূর্ণ দখল করো বা পদত্যাগ করো।” বৃহস্পতিবার দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হামাসকে উৎখাত করে দ্রুত গোটা গাজা দখলের পরিকল্পনা রয়েছে।

গাজা-হামাস ও ইজরায়েলের চলমান সংঘর্ষে বর্তমানে গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইডিএফ। এই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মিশন এখন বাকি ২৫ শতাংশ দখল করা। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, এই অংশেই লুকিয়ে রাখা হতে পারে বহু পণবন্দি। তাই গোটা গাজা দখলের ব্যাপারে ইজরায়েল অনেকটাই নিশ্চিত।

২০২৩ সালে শুরু হওয়া নতুন এই সংঘাতে অন্তত ৬০ হাজার প্যালেস্তিনীয় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গাজায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ এখনো খাদ্য ও পানীয়ের জন্য তৎপর, তাঁদের মধ্যে ৭১ হাজার শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ জানায়, গত ২ মার্চ থেকে মানবিক সাহায্য — যেমন খাবার, ওষুধ ও জ্বালানি — গাজায় প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। যদিও পরে সাময়িকভাবে ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দেয় ইজরায়েল, তবুও সামরিক গুলিতে ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা পাচ্ছে অনেক সময়।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, গত মে মাস থেকে গাজার ত্রাণ শিবিরে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার পরিস্থিতিকে “অতীব ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গাজার মৃত্যু ও ধ্বংসের মাত্রা এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যার আগে কোনও তুলনা ছিল না।”

গাজার এই দুঃসহ পরিস্থিতি ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও বিতর্ক তীব্র হচ্ছে প্রতিনিয়ত।