এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
সুদানের সেনাবাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানে মারাত্মক বোমা হামলা চালিয়েছে। বিমানটিতে কলম্বিয়ার ভাড়াটে সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল। দারফুরের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রিত নিয়ালা বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ই বিমানটি বোমায় উড়িয়ে দেওয়া হয়।
সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারি টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত সুদানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি ওই বিমানবন্দরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, আমিরাতের বিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে আরএসএফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। আমিরাতও বিমান ধ্বংসের বিষয়টি স্বীকার করেনি। এক আমিরাতি কর্মকর্তা বলেছেন, সুদানের সেনাবাহিনীর অভিযোগ মিথ্যা এবং এর নিন্দা জানাই।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো জানিয়েছেন, কতজন কলম্বিয়ান নাগরিক এই হামলায় নিহত হয়েছেন তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেছেন, প্রয়োজনে তাদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বিমানটি উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং এতে কয়েক ডজন বিদেশি যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল। এসব পাঠানো হচ্ছিল আরএসএফকে সহায়তার জন্য। নিয়ালা বিমানবন্দরটি আধাসামরিক বাহিনীটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আমিরাত নিয়ালা বিমানবন্দর হয়ে আরএসএফকে ড্রোনসহ উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করছে। তবে আবুধাবি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণা ল্যাবের প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দক্ষিণ দারফুরের রাজধানীর বিমানবন্দরে চীনা তৈরি একাধিক দূরপাল্লার ড্রোন দেখা গেছে।
এদিকে সোমবার সুদানের সেনাসমর্থিত সরকার আমিরাতের বিরুদ্ধে কলম্বিয়ান ভাড়াটে সৈন্য নিয়োগ ও অর্থায়নের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট নথি তাদের হাতে রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষের দিকে দারফুরে কলম্বিয়ান যোদ্ধাদের আগমন শুরু হয় এবং তারা বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।