ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

সিন্ধু পানি বিতর্কে চরম টেনশন! আন্তর্জাতিক আদালত ভারতের পেছনে লাথি, পাকিস্তান খুশিতে ফেটে পড়ল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

সিন্ধু পানি বিতর্কে চরম টেনশন! আন্তর্জাতিক আদালত ভারতের পেছনে লাথি, পাকিস্তান খুশিতে ফেটে পড়ল

ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়, সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের স্বস্তি

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত, পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (পিসিএ), গত ৮ আগস্ট ঘোষণা দিয়েছে, ভারতকে সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তির ওপর আর স্থগিতাদেশ বজায় রাখতে পারবে না। অর্থাৎ ভারতকে চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী পানি বিতরণ চালিয়ে যেতে হবে।

আদালত আরও পরিষ্কার করেছে, সিন্ধু নদী বা এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো নদীতে (বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ বা অন্য কোনো বড় ধরনের স্থাপনা) চুক্তির মূল নথির বিপরীত কোনো কাজ করা যাবে না।

পেহেলগাম হামলার প্রভাব: চুক্তি স্থগিত করে ভারত, পানির সংকট পাকিস্তানে

গেলো ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৫ ভারতীয় ও এক নেপালি নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’।

এই হামলার পর ভারতের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা। এরপর সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলাম নদীর পানি প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যায়, যার ফলে পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দেয়।

আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে মামলা করে পাকিস্তান, রায় এসেছে পাকিস্তানের পক্ষে

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে পাকিস্তান। ৮ আগস্ট পিসিএ এই মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায়ে বলা হয়, ভারতের অবশ্যই চুক্তির মূল শর্ত মেনে সিন্ধু অববাহিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন নদীর পানি বাধামুক্ত রাখতে হবে।

বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পিসিএর নির্দেশনা

ভারত আগেই জানিয়েছিল, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সিন্ধু নদীর ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণ করবে। পিসিএ বলেছেন, যদি বাঁধ নির্মাণ করতে হয়, তা অবশ্যই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এবং চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

পাকিস্তানের উৎসব, ভারতের চুপ্পি

আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়ের পর ভারত এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পাকিস্তান এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আদালত ভারতকে নির্দেশ দিয়েছেন সিন্ধু নদীর পানি অবাধে প্রবাহিত করতে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বানও দিয়েছেন।”

সিন্ধু পানি চুক্তি: দুই পারমাণবিক শক্তির দীর্ঘ দিনের বিবাদ

১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদ ও এর উপনদীর পানি দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়। ভারতের জন্য অনুমোদিত নদীগুলো হলো ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু, আর পাকিস্তানের জন্য সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব।

চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনো নিয়ম নেই। বরং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

পাকিস্তানের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য সিন্ধু নদীর পানি অপরিহার্য

সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি পাকিস্তানের কৃষি, শহর ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রধান উৎস। পাকিস্তানের সেচ ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই নদীগুলোর প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল।