ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইরান উদঘাটন করলো ইসরায়েলি পাইলটদের গোপন তথ্য! “তারা আর নিরাপদ নয়


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ইরান উদঘাটন করলো ইসরায়েলি পাইলটদের গোপন তথ্য! “তারা আর নিরাপদ নয়

তেহরানের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় হামলায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর পাইলট, কমান্ডার এবং ড্রোন অপারেটরদের সম্পূর্ণ প্রোফাইল ইরানের গোয়েন্দারা প্রকাশ করেছে। শনিবার দেশটির সরকারি টেলিভিশন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি গোয়েন্দারা পাইলটদের পুরো ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ার করেছেন—তাদের নাম, ঠিকানা, অপারেশনাল ইউনিট, সামরিক ঘাঁটি এবং যেসব অপরাধে তারা জড়িত তা সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টেলিভিশনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো পাইলটদের মুখ আংশিক ঝাপসা করলেও, ইরানি গোয়েন্দারা তাদের সঠিক পরিচয় বের করতে সক্ষম হয়েছেন।

দুই পাইলটের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে—“স্কোয়াড্রন ১১৯ বা ‘ব্যাট’ স্কোয়াড্রনের ডেপুটি কমান্ডার মেজর ইয়েল অ্যাশ” এবং তার স্বামী বার প্রিন্স। ইয়েল অ্যাশকে ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া মেজর শিমন অ্যাশের নাতনী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

‘তারা আর নিরাপদ নয়’
একটি ইরানি চ্যানেল জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দারা স্যাটেলাইট ছবি থেকে সঠিক বসবাসের স্থানও শনাক্ত করেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে ইয়েল অ্যাশ বলেছেন, তিনি ইহুদিবাদীদের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিজেও নিরাপদ নন।

চ্যানেলটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলি কর্মীদের গোপন তথ্য প্রকাশ পুরো বিশ্বে তাদের অনিরাপদ করে দিয়েছে।”

ইরানি গোয়েন্দারা এই তথ্যের মাধ্যমে কর্মীদের অবস্থান, সরঞ্জাম এবং গতিবিধি সম্পর্কে কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে প্রতিশোধ নেওয়াও সম্ভব।

‘প্রতিশোধের নমুনা ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে’
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর কিছু কর্মী ইতিমধ্যে তাদের বাসস্থান লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

একটি সম্প্রচার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ইয়াভনে শহরে ইসরায়েলি কর্মীদের বসবাসের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। অনেক বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মোট ২২ ধাপে পাল্টা আক্রমণ চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের পারমাণবিক, সামরিক ও শিল্প স্থাপনা। ১২ দিন পর যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করতে বাধ্য হয় ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সরকার নিন্দা প্রচেষ্টায় ব্যর্থ
প্রতিবেদন বলেছে, পাল্টা হামলার পর ইসরায়েলি সরকার বিমান বাহিনী কর্মীদের স্কুলসহ “বেসামরিক” স্থানগুলোতে স্থানান্তরিত করেছে। যাতে হামলা হলে তারা দাবি করতে পারে, ইরান বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এতে ইরান গোপন তথ্য প্রকাশ বন্ধ রাখেনি, বরং বলেছে, এই তথ্য প্রকাশ “শুধু একটি উদাহরণ” মাত্র।

“গোপন তথ্য প্রকাশের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে,” ইরানি পক্ষ জানিয়েছে।