ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

পুলিশ না এলেও, নিজেই গোয়েন্দা হয়ে চোর ধরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ মালিক!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

পুলিশ না এলেও, নিজেই গোয়েন্দা হয়ে চোর ধরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ মালিক!

যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে এক রেস্তোরাঁ মালিকের দুর্দান্ত কাহিনী সামনে এসেছে, যা যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য। তার নাম অঙ্কিত ভাগেলা, যিনি নিজের রেস্তোরাঁয় চুরি হলে পুলিশকে খবর দিলেও সাহায্য না পেয়ে নিজেই গোয়েন্দার ভূমিকায় নামেন। অবশেষে চুরি হওয়া জিনিসের বেশ কিছু অংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি।

সাউদাম্পটনের ইস্ট স্ট্রিটে অবস্থিত অঙ্কিতের নিরামিষ রেস্তোরাঁ ‘পধারো’ খুবই জনপ্রিয়। সম্প্রতি সেখানে কিছু দুর্বৃত্ত ঢুকে দামি মদ ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যায়। অঙ্কিত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানালে, পুলিশ তাকে সিসিটিভি ফুটেজ পাঠানোর জন্য বলে, কিন্তু ঘটনাস্থলে কেউ আসে না।

অপেক্ষা না করে ভাগেলা নিজেই চোর ধরার মিশনে নেমে পড়েন। কাছাকাছি এক রাস্তার মোড়ে ভাঙা ক্যাশ রেজিস্টার এবং ভাঙা মদের বোতল খুঁজে পান তিনি।

অঙ্কিত বলেন, “পুলিশ আমাকে জানিয়েছে তিন থেকে পাঁচ কর্মদিবস পরই আসতে পারবে, আর ফরেনসিক টিমও নেই। এটা শুনে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি।”

চুরির পর রেস্তোরাঁজুড়ে ভাঙা কাচ ছড়িয়ে ছিল। ব্যবসা বন্ধ রাখার সুযোগ না থাকায় দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এখনও নতুন ক্যাশ রেজিস্টার ছাড়াই কাজ চলছে, তবুও অতিথিদের সেবায় কোনও ধরনের খামতি নেই।

এটি অঙ্কিতের রেস্তোরাঁয় প্রথম চুরি নয়। ঠিক এক বছর আগে অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল, যদিও তখন কোনো ক্ষতি হয়নি। এবারের ঘটনা এবং শহরের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

চুরির কয়েকদিন আগে ‘পধারো’তে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরা, সহ অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর, খাবার খান। এছাড়া মাসের শেষে রেস্তোরাঁর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতিও চলছে।

ঘটনার পর রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছে— “সতর্ক থাকুন সবাই, আমরা চাই না কেউ এই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। আমরা সব ঝামেলা দূর করে আবার ব্যবসা শুরু করেছি।”

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগীদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তবে অপরাধীরা ঘটনাস্থলে না থাকায় তাত্ক্ষণিকভাবে তাদের যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।