ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ট্রাম্পের করিডোর হবে কবরস্থান! ইরানের আক্রমণাত্মক হুঁশিয়ারি দিল তেহরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ট্রাম্পের করিডোর হবে কবরস্থান! ইরানের আক্রমণাত্মক হুঁশিয়ারি দিল তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ককেশাস করিডোর নিয়ে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে তা ট্রাম্পের নয়, বরং তার “ভাড়াটে সৈন্যদের কবরস্থান” হয়ে উঠবে। এই কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি।

“ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি” (TRIPP) নামে পরিচিত এই পরিকল্পনায় করিডোরটি আর্মেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যাবে, যার মাধ্যমে আজারবাইজান তার নাখিচেভান এক্সক্লেভকে সরাসরি তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে। করিডোরের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, যা জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদ রপ্তানিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

ইরান যদিও এই চুক্তিকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে সীমান্তের কাছে বিদেশি কোনো হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং ইসরায়েল-ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের সামরিক শক্তি হয়তো এই করিডোর আটকানোর মতো পর্যাপ্ত নয়।

অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া বলেছে, এই সমস্যার সমাধান আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যেই থাকা উচিত যাতে পশ্চিমাদের মধ্যপ্রাচ্যের মতো ব্যর্থ উদ্যোগ এখানে পুনরায় ঘটে না। আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক অবশ্য খোলাখুলিভাবে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।

২০২৩ সালে নাগোর্নো-কারাবাখ সম্পূর্ণরূপে আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। আজারবাইজান জানিয়েছে, শান্তিচুক্তি কার্যকর করার একমাত্র বাধা হচ্ছে আর্মেনিয়ার সংবিধান থেকে নাগোর্নো-কারাবাখের ভূখণ্ড দাবি মুছে ফেলা। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান গণভোটের ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, করিডোরের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। কাস্টমস চেক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্মেনিয়ার দিক থেকে আজারবাইজানি ভূখণ্ডে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট না হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।