এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বশক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বারবার রাজনৈতিক ও কৌশলগত জটিলতায় আটকে যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়াদিল্লির প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি প্রথমেই ভরসা করেছিলেন চীনের ওপর। শি জিনপিংকে গুজরাটে লাল গালিচায় অভ্যর্থনা দিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঠিক তখনই সীমান্তে চীন-ভারত সেনাদের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ে সেনা মোতায়েনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর মোদি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চীনবিরোধী কৌশলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়েন। এমনকি প্রোটোকল ভেঙে হিউস্টনে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচন প্রচারণায়ও অংশ নেন। কিন্তু সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, ভারতের অর্থনীতিকে “মৃত” বলে আখ্যায়িত করেন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য অভিযোগ তোলেন।
কাশ্মিরে হামলার পর পাকিস্তানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ায় ভারত ক্ষুব্ধ হয় এবং প্রকাশ্যে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে মোদির কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
বর্তমানে ভারত ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতিতে ফিরে এসেছে এবং চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে। চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি যোগাযোগ শুরু করেছে, আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব’ নিশ্চিত করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতাগুলো ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্নে আঘাত করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত নিরুপমা রাও বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ কৌশলগত ভিত্তি নষ্ট করেছে। বিশ্লেষক সঞ্জয়া বারুর মতে, দুই নেতার ব্যক্তিগত ইগো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।