এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও প্রমাণ করল—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তারা দাবার বোর্ডের সবচেয়ে চতুর খেলোয়াড়। সুযোগ পেলেই ঘুঁটি বদলানো, পক্ষ পরিবর্তন—সবই যেন তাদের পুরনো অভ্যাস। আর সেই অভ্যাসই ফের সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল। শুধু তাই নয়, তাদের সহযোগী ‘মাজিদ ব্রিগেড’-এর গায়েও সেঁটে দেওয়া হলো একই তকমা।
এ ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে আমেরিকার পুরনো রীতি—যেখানে আজকের মিত্র, কালকের শত্রু।
গল্পটা নতুন নয়। বিংশ শতকের আশির দশক, ঠান্ডা যুদ্ধের সময়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় ‘বন্ধু’ হয়ে ওঠেন এক ব্যক্তি—ওসামা বিন লাদেন। আফগান মুজাহিদিন হিসেবে তাকে সম্মানিত করে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন, কারণ তখন রাশিয়াকে ঠেকাতে তারা মরিয়া। লাদেন ছিলেন সেই পরিকল্পনার অংশ—রাশিয়া সীমান্তে আমেরিকার প্রভাব বাড়ানোই ছিল লক্ষ্য।
কিন্তু সময় বদলালো। এক দশকের মধ্যেই সেই প্রিয় বন্ধু লাদেন হয়ে গেলেন শত্রু নম্বর এক। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়দার ভয়াবহ হামলার পর লাদেনকে খুঁজে বের করতে মরিয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র। অবশেষে ২০১১ সালে পাকিস্তানের আবোটাবাদে তাকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
আজ ইতিহাস যেন নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে। একসময় যাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে দেখেছিল হোয়াইট হাউস, সেই বালোচ লিবারেশন আর্মিকে এখন সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ? সূত্র বলছে, পাকিস্তানকে খুশি রাখা।
এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আমেরিকা সফরে আছেন। দুই দেশের মধ্যে সদ্য একটি বাণিজ্য চুক্তিও হয়েছে। সম্পর্কও এখন বেশ উষ্ণ—বলতে গেলে ‘শোলে’ ছবির জয়-বীরুর মতো। আর সেই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতেই ট্রাম্পের প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অথচ, খুব বেশিদিন আগে নয়, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক যখন ততটা ভালো ছিল না, তখনই যুক্তরাষ্ট্র বালোচদের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদকে চাপের মুখে রেখেছিল। আর এখন সুবিধা বদল, তাই ‘মিত্র’ পাকিস্তানের মন জয় করতে পুরনো বন্ধু বালোচদের সন্ত্রাসীর তালিকায় ফেলে দিলো আমেরিকা।
যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নীতি বদলাতে সময় লাগে না, তাতে মনে প্রশ্ন জাগে—যদি আগামী দিনে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়, তবে কি আবারও বালোচদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ বলে স্বীকৃতি দেবে আমেরিকা? ইতিহাস কিন্তু সে দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।