এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
নাইজারের সাহারা মরুভূমি থেকে উদ্ধার হওয়া ২৫ কেজির মঙ্গল উল্কাপিণ্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিসেবে সোথবি’স নিলামে ওঠে। তবে নিলাম এবং রপ্তানি নিয়ে নাইজার সরকার ‘অবৈধ পাচার’ অভিযোগ তুলেছে। বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মালিকানা, নীতিশাস্ত্র ও মহাকাশের ঐতিহ্য রক্ষার প্রেক্ষিতে এই উল্কাপিণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন।
পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় মঙ্গলের উল্কাপিণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২৫ কেজি ওজনের এই পাথরটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নাইজারের সাহারা মরুভূমি থেকে উদ্ধার করা হয়। সোথবি’স-এর নিলামে এটি পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় মঙ্গলের উল্কাপিণ্ড হিসেবে তালিকাভুক্ত।
নাইজার সরকার জানিয়েছে, নিলামের পর তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অবৈধ পাচারের বৈশিষ্ট্য বহন করছে। সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উল্কাপিণ্ড ও মূল্যবান পাথরের রপ্তানি স্থগিত করেছে।
তবে সোথবি’স এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, উল্কাপিণ্ডটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনে রপ্তানি করা হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র জানান, বিতর্কের কারণে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে।
নীলাভ-গেরুয়া রঙের এই উল্কাপিণ্ড মহাকাশে ১৪ কোটি মাইল ভ্রমণ করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সাহারায় পড়েছে। আবিষ্কারের পর এটি এক আন্তর্জাতিক বিক্রেতার কাছে বিক্রি হয়, পরে ইতালিতে সংক্ষিপ্ত প্রদর্শনের পর নিউইয়র্কের নিলামে আসে।
জীবাশ্মবিদ পল সেরেনো মনে করেন, উল্কাপিণ্ডটি অবৈধভাবে দেশটি থেকে বেরিয়েছে। তিনি বলেন, “যদি কেউ আকাশ থেকে পড়ার সময় এটি ধরে রাখত, দাবি করা যেত। কিন্তু এটি নাইজারের সম্পদ।”
আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত জমিতে উল্কাপিণ্ড পড়লে মালিকের অধিকার থাকে। তবে নাইজারে ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ আইন অনুসারে বিরল খনিজ এবং উল্কাপিণ্ড রাষ্ট্রের সম্পদ।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার জন্য এনডব্লিউএ ১৬৭৮৮ উল্কাপিণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। সেরেনো বলেন, “এটি প্রকৃতির এবং বিশ্বের ঐতিহ্য। কারো ব্যক্তিগত ড্রয়িংরুমে হারানো উচিত নয়।”