এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
মায়ানমারের মান্দালয়ের কাছে সাগাইং অঞ্চলে বেসামরিক সরবরাহ গাড়িবহরে বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে আটকে পড়া ট্রাকগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন অভ্যুত্থানবিরোধী যোদ্ধাও রয়েছেন। সামরিক সরকারের হামলা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় দেশজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের বাইরে সংঘর্ষ চলাকালীন আটকে পড়া বেসামরিক সরবরাহ গাড়িবহরে বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। দুই স্থানীয় বাসিন্দার বরাত দিয়ে এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
মান্দালয়ের কাছাকাছি মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলের তাউং ইয়িন গ্রামে সোমবার বিকেলে হামলা চালানো হয়। ওই সময় ট্রাকগুলো লড়াইয়ের কারণে আটকা পড়ে ছিল। স্থানীয়রা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন অভ্যুত্থানবিরোধী যোদ্ধাও ছিলেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক সরকার ক্রমে বিমান বাহিনীর ব্যবহার বাড়াচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, “মৃতদেহ শনাক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে। কিছু দেহ টুকরা টুকরা হয়ে ছড়িয়ে গেছে।” সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও এএফপির যাচাইকৃত ছবিতে আগুনে জ্বলছে ট্রাক এবং আশপাশের লোকজন মরদেহ সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
সামরিক সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং দেশটির অর্ধেক জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী এবং প্রভাবশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলো ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক বাহিনী মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলে বিদ্রোহীদের কাছ থেকে কিছু এলাকা পুনর্দখল করেছে, যেখানে তারা ভোট আয়োজন করতে পারে। স্থানীয়দের ধারণা, হামলার লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহী অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত করা।
এক বাসিন্দা জানান, হামলা দুই ঘণ্টা ধরে চলে। তিনি বলেন, “আমরা মাথা তুলতেও পারিনি।”