এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম
ইসরায়েলি হামলায় শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হওয়ার পর ইরান তৎপর হয়ে উঠেছে। দেশের বাকি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানাচ্ছে, প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে বিশেষ নিরাপত্তায় গোপন আস্তানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত জুনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই হামলায় ছয়জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হন। এই ঘটনায় আরও হত্যার আশঙ্কা বেড়ে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এমনভাবে সাজানো, যাতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীর জন্য একজন করে বিকল্প বা ডেপুটি থাকে। ফলে কেউ নিহত হলেও কর্মসূচি চালু থাকে। বর্তমানে নিরাপদ আস্তানায় সরিয়ে নেওয়া বিজ্ঞানীরা তেহরান ও উত্তর উপকূলের গোপন ভিলায় পরিবারসহ বসবাস করছেন। তারা আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন না; তাদের স্থলাভিষিক্তরা এখন কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাদের বর্ণনা করা হচ্ছে “ডেড ম্যান ওয়াকিং”, যদিও এখন ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা, সেফ হাউস ও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্র জানাচ্ছে, নিহত বিজ্ঞানীদের স্থলাভিষিক্তরা SPND প্রকল্পে যুক্ত হতে পারেন, যা বিস্ফোরক, নিউট্রন পদার্থবিদ্যা ও ওয়ারহেড নকশার সঙ্গে সম্পর্কিত। জুনের হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে, তাই এই বিশেষজ্ঞরাও এখন কৌশলগত টার্গেট।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিজ সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, “যে কোনো ইরানি বিজ্ঞানী পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকলে, তাকে হত্যা করা হবে বা হত্যার হুমকি দেওয়া হবে।”
ইরানি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার হয়েছে। আগে একমাত্র রেভল্যুশনারি গার্ড দায়িত্বে থাকলেও এখন একাধিক সংস্থা বিজ্ঞানীদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, তারা তাদের দেহরক্ষীদের বিশ্বাস করেন কি না। কেউ ‘না’ বললে সঙ্গে সঙ্গে নতুন দেহরক্ষী নিযুক্ত করা হয়েছে।