এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম
যুদ্ধবিরতি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব থেমে নেই। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়াছুড়ি বন্ধ হলেও এখন সাইবার জগতে চলছে ভয়ঙ্কর লড়াই। দিন যত যাচ্ছে, এই অনলাইন যুদ্ধ ততই তীব্র হয়ে উঠছে।
সাইবার যুদ্ধের নতুন মাত্রা:
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সাইবার হামলার মাত্রা বেড়েছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্লিয়ারস্কাইয়ের প্রধান বোয়াজ দোলভ জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপগুলো মাইক্রোসফ্ট সার্ভারের একটি নতুন দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের সাইবার হামলা জোরেশোরে:
গত মাসে ইরান ইন্টারন্যাশনালও জানিয়েছিল, ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হলেও ইরানের সাইবার হামলা পুরোদমে চলছে। নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য আরও নিশ্চিত হয়েছে। চেক পয়েন্ট নামের আরেকটি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, ইসরায়েলের কূটনীতিক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লক্ষ্য করে ফিশিং আক্রমণও বেড়েছে।
হ্যাকারদের পাল্টাপাল্টি হামলা:
জুনের সংঘাতে ইসরায়েল-সমর্থিত হ্যাকার গ্রুপ 'গনজেশকে দারান্দে' ইরানের নোবিটেক্স ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ৯০ মিলিয়ন ডলার চুরি করে। তারা ইরানের ব্যাংক সেপাহ ও ব্যাংক পাসারগাদের প্রধান এবং ব্যাকআপ ডেটা সেন্টার ধ্বংস করে ব্যাংকিং সেবা অচল করে দেয়। পরে হামলার দায় স্বীকার করে গ্রুপটি।
প্রতিশোধ নিতে ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা প্রায় ৫০টি ইসরায়েলি কোম্পানিতে হ্যাক-এন্ড-লিক অভিযান চালায়। তারা সিস্টেম ধ্বংসের জন্য ম্যালওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা করে এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে কাজ করা হাজারো ইসরায়েলির সিভি চুরি করে নেয়।
ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোই প্রধান লক্ষ্য:
যদিও ইরানি হ্যাকাররা ইসরায়েলের সামরিক বা বড় কর্পোরেট নেটওয়ার্ক ভেদ করতে পারেনি, তবে ছোট ব্যবসা, লজিস্টিকস, জ্বালানি সরবরাহকারী ও মানবসম্পদ কোম্পানিগুলো তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়েছে। এতে সাইবার নিরাপত্তা খাতে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়ে গেছে, অনেকেই আর্থিক চাপে পড়েছে।
এখন কী হবে?
সাইবার যুদ্ধের এই উত্তাপ কি আরও বাড়বে? নাকি দুই দেশ কোনো সমঝোতায় আসবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন না কূটনৈতিক সমাধান হচ্ছে, ততদিন এই সাইবার লড়াই চলতেই থাকবে।