ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

যুদ্ধ শেষ হলেও ইসরায়েলের মানুষ শান্ত নয়! অনিদ্রা ও উদ্বেগে অর্ধেক দেশের মানুষ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

যুদ্ধ শেষ হলেও ইসরায়েলের মানুষ শান্ত নয়! অনিদ্রা ও উদ্বেগে অর্ধেক দেশের মানুষ

ইরানের বিরুদ্ধে ‘রাইজিং লায়ন’ অভিযান শেষ হয়েছে এক মাস আগেও, কিন্তু ইসরায়েলিদের মানসিক যুদ্ধ থামেনি। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মানুষ অনিদ্রা, উদ্বেগ ও ক্লান্তিতে ভুগছেন। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। বহু মানুষ এখন মানসিক সহায়তা প্রয়োজন মনে করছেন, যা যুদ্ধের প্রভাব এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘রাইজিং লায়ন’ শেষ হয়েছে এক মাস আগে। কিন্তু মাক্কাবি হেলথকেয়ার সার্ভিসের সর্বশেষ জরিপ দেখাচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও মানসিক লড়াই থামেনি ইসরায়েলিদের।

১,১০০ জন ইসরায়েলির ওপর করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি মানুষ অনিদ্রা, ক্লান্তি, উদ্বেগ, ভয় এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভুগছেন। ফেব্রুয়ারিতে ঘুমের সমস্যা ছিল ৩৩ শতাংশ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।

প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত দুইবার অনিদ্রায় আক্রান্ত হন। ১৬ শতাংশের ক্লান্তি এতটাই তীব্র যে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ বলছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুব কঠিন।

যুদ্ধ চলাকালীন ধূমপায়ীদের সিগারেটের ব্যবহার বেড়েছে। মানসিক অবস্থা মাঝারি বা খারাপ বলছেন ২০ শতাংশ মানুষ, যা ৭ অক্টোবরের আগে তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এখন ৩০ শতাংশ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন মনে করছেন, যা দুই মাস আগে ছিল ১৮ শতাংশ।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ২০ শতাংশ মানুষ প্রায়ই দুঃখ, হতাশা বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ হারানোর অনুভূতি পাচ্ছেন। শিশুদের ওপরও প্রভাব গভীর—২৫ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের আচরণে অবনতি দেখেছেন, আর ২০ শতাংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন।

মাক্কাবির গবেষণা বিভাগের প্রধান নাআমা স্টেইন বলেছেন, “কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরা গেলেও যুদ্ধ চলমান থাকায় মানসিক ক্ষতি রয়ে গেছে। এটি ঘুম ও মানসিক সুস্থতায় গভীর প্রভাব ফেলছে, ফলে অনেকেই মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছেন।”