ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

চলমান গণহত্যা!” গাজায় বোমা ও ক্ষুধার্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতাদের বিস্ফোরক মন্তব্য, ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম

চলমান গণহত্যা!” গাজায় বোমা ও ক্ষুধার্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতাদের বিস্ফোরক মন্তব্য, ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা, মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

গাজা সিটিতে ফের তীব্র বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাস নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মতে, টানা তিন দিন ধরে জেইতুন ও সাবরা এলাকায় প্রচণ্ড বোমাবর্ষণে অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। ভারী গোলাবর্ষণের কারণে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করতেও চরম সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জাপান এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন,

“আমাদের চোখের সামনে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে।”

তাদের দাবি, গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা অবিলম্বে পৌঁছানো উচিত। ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, সাহায্য বিতরণ কেন্দ্র ও ত্রাণবাহী ট্রাকের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এখন পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, গাজায় স্বাস্থ্য সংকট “বিপর্যয়কর” পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং জরুরি ওষুধ ও সরঞ্জাম পৌঁছানোর অনুমতি দিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভা সোমবার গাজা সিটি দখলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন,

“গাজা সিটি ও আল-মাওয়াসির অবশিষ্ট হামাস ঘাঁটি ধ্বংস করা হবে এবং ত্রাণ পৌঁছাতে নিরাপদ করিডর ও আকাশপথে সরবরাহ বাড়ানো হবে।”

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে— এর মধ্যে ৩১ জন ত্রাণকেন্দ্রে এবং ৫ জন অপুষ্টিতে মারা গেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ নেতাদের সংগঠন “দ্য এল্ডার্স”-এর হেলেন ক্লার্ক ও মেরি রবিনসন পরিস্থিতিকে “চলমান গণহত্যা” আখ্যা দিয়ে বলেছেন,

“দুর্ভিক্ষ মানবসৃষ্ট এবং এর জন্য ইসরায়েল দায়ী।”

রবিবার গাজা সিটিতে এক মিডিয়া তাঁবুতে ইসরায়েলের লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হন, যাদের একজন খ্যাতনামা প্রতিবেদক আনাস আল-শরিফ। ইসরায়েল দাবি করেছে, তিনি হামাসের একটি সেলের নেতা ছিলেন, তবে প্রমাণ সীমিত। আল জাজিরা অভিযোগ করেছে, এটি গাজার ভেতরের খবর প্রচার বন্ধ করার চেষ্টা।