এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
ইসরায়েল নাকি গোপনে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের পূর্ব আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে! প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে দেশটির মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৬টি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে আলোচনা ঠিক কতদূর এগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু যদি সমঝোতা হয়ে যায়, তবে এটি হবে গাজার মানুষের জন্য ভয়ংকর খবর— কারণ, দক্ষিণ সুদান নিজেই যুদ্ধ, দারিদ্র্য আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে জর্জরিত একটি দেশ।
গাজার মানুষকে অন্য দেশে পাঠানোর ধারণা প্রথম দেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দায়িত্বে থাকার সময় একাধিকবার তিনি বলেন, গাজার বাসিন্দাদের “নিরাপদ ও সংঘাতমুক্ত” কোনো দেশে পাঠানো উচিত। বিভিন্ন দেশকে এই প্রস্তাব দিয়ে তিনি আহ্বান জানান, যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে পরে বিষয়টি নিয়ে নীরব হয়ে যান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, “গাজার ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প যা বলেছেন, আমি তাতে একমত।” নেতানিয়াহুর যুক্তি— যুদ্ধের নিয়ম হলো প্রথমে বেসামরিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, তারপর পূর্ণ শক্তি দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করা।
এপি নিউজের আরও দাবি, দক্ষিণ সুদানে কর্মরত মার্কিন লবিস্ট জোয়ে স্লাভিক জানিয়েছেন— দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, শিগগিরই ইসরায়েলের একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ সুদানে যাবে। তাদের লক্ষ্য হবে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য উপযুক্ত বসবাসের জায়গা চিহ্নিত করা।
স্লাভিকের মতে, ইসরায়েল এই চুক্তি করলে দক্ষিণ সুদান বিপুল অর্থ পাবে এবং দেশটির ধনী ও অভিজাতদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
দক্ষিণ সুদানের সিভিল সোসাইটির নেতা এডমুন্ড ইয়াকানি জানিয়েছেন, অন্তত চারজন সরকারি কর্মকর্তা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।