এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার গত সপ্তাহের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র মতবিরোধ। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এক বড় প্রশ্ন— গাজা উপত্যকা কি পুরোপুরি পুনর্দখল করা হবে, নাকি বর্তমান কৌশলেই অভিযান চালানো হবে?
সরকারি উপদেষ্টা ও বর্তমান-সাবেক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সরাসরি ঢুকবে গাজা সিটিতে—যা গাজার শেষ বড় শহর এবং এখনো ইসরায়েলের দখলে নেই। শহরটি দখল করতে পারলে ইসরায়েল গাজার আরও ১০% এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনবে, আর বাকি জনসংখ্যাকে ঠেলে দেবে অবশিষ্ট ১৫% জমিতে। বর্তমানে আইডিএফ ইতিমধ্যেই গাজার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে এই পরিকল্পনা ছিল সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির ও অন্যান্য জেনারেলের প্রস্তাবের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও রক্তক্ষয়ী। সেনাদের প্রস্তাব ছিল শহর ঘিরে ফেলে বাইরে থেকে আক্রমণ চালানো—একটি সীমিত পর্যায়ের কৌশল। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা চান পুরো গাজা দখল, যা অনেক বড় ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ।
পুরো গাজা দখল করতে আইডিএফের পাঁচটি ডিভিশন প্রয়োজন হবে, কিন্তু সেনাদের প্রস্তাবে তার অর্ধেকেরও কম সেনা দিয়ে ধাপে ধাপে অভিযান চালানো সম্ভব। তবে এর শর্ত— আগামী এক মাসের মধ্যে গাজা সিটির প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে দেওয়া, যাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যেই বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর তখন তাঁদের যাওয়ার মতো জায়গাও প্রায় থাকবে না।
আশ্চর্যের বিষয়, সেনাদের এই বিকল্প পরিকল্পনা আসে নেতানিয়াহুর ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই— যেখানে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন, গাজা পুরোপুরি দখল করাই তাঁর লক্ষ্য।
এমন অবস্থান নেতানিয়াহুর অতিদক্ষিণপন্থী মিত্রদেরও অস্বস্তিতে ফেলেছে। একই সঙ্গে প্রমাণ করেছে— শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা এখনো তাঁর রাজনৈতিক নির্দেশনার বিপরীতে অবস্থান নিতে সাহস দেখাচ্ছেন।
নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী, আর সেনা জেনারেলদের সঙ্গে তাঁর এই দ্বন্দ্ব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে।