এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৯:০৮ পিএম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সাম্প্রতিক “গ্রেটার ইসরায়েল” মন্তব্যে জর্ডান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে— এই ধরনের মন্তব্য শুধু বিপজ্জনক বা উসকানিমূলক নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। এটি সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব ও সীমান্তের প্রতি গুরুতর হুমকি তৈরি করে।
“গ্রেটার ইসরায়েল” ধারণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— ইসরায়েল, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, মিসরের সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি, আরব ও আন্তর্জাতিক মহল এটিকে একটি সম্প্রসারণবাদী স্বপ্ন হিসেবে দেখছে, যা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুফিয়ান কুদাহ বলেন, নেতানিয়াহুর মন্তব্য আসলে ইসরায়েলি সরকারের ভেতরের সংকটের প্রতিফলন। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান আগ্রাসনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে তারা ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য শুধু শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে না, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।”
কুদাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন— অবিলম্বে ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড ও মন্তব্য বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যা সংঘাত উসকে দেয় এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি সতর্ক করেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
এরই মধ্যে আরব দেশগুলোও নেতানিয়াহুর “গ্রেটার ইসরায়েল” মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ওপর দমননীতি ও দখলদারিত্ব অব্যাহত রেখে এই ধরনের সম্প্রসারণবাদী স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। আর তা হলে নতুন সংঘাতের জন্ম হবে, যা শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শুধু প্রতীকী বার্তা নয়, বরং ইসরায়েলের ভেতরে কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলকে খুশি রাখার কৌশল। তবে এর ফলে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো থেকেও।