ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইরানের ধ্বংসাত্মক হামলায় তেলআবিব ছিন্নভিন্ন! আন্তর্জাতিক চাপে কোণঠাসা নেতানিয়াহু, পালানোর পথ খুঁজছিলেন শেষ মুহূর্তে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ইরানের ধ্বংসাত্মক হামলায় তেলআবিব ছিন্নভিন্ন! আন্তর্জাতিক চাপে কোণঠাসা নেতানিয়াহু, পালানোর পথ খুঁজছিলেন শেষ মুহূর্তে

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে জুনের সেই ১২ দিন যেন এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে চিরকাল। আগুন, ধ্বংস আর রক্তে রঙিন হয়ে গিয়েছিল পুরো অঞ্চল। ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে গিয়েছিল মুহূর্তেই, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হয় অভূতপূর্ব সংঘাত।

জুনে ইসরায়েল শুরু করে “অপারেশন রাইজিং লায়ন”, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা। তেহরানের কুখ্যাত ইভিন কারাগারে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৮০ জন প্রাণ হারান—যাদের মধ্যে ছিলেন বন্দি ও সাধারণ কর্মচারী। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দেয়।

কিন্তু তেহরান পাল্টা জবাব দিতে সময় নেয়নি। উত্তর সীমান্ত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেঁপে ওঠে তেলআবিব। মাত্র একদিনেই ইসরায়েলের অন্তত ২৪ জন নিহত হন। পরবর্তী কয়েক দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যায়।

মাঠে যুদ্ধ থেমে গেলেও ছায়াযুদ্ধ চলতে থাকে—সাইবার আক্রমণ। ইসরায়েলের হ্যাকার গ্রুপ “গনজেশকে দারান্দে” ইরানের ব্যাংকিং সিস্টেমে হামলা চালিয়ে কোটি কোটি ডলার উধাও করে দেয়। জবাবে ইরান সাইবার আক্রমণে ইসরায়েলের যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে ভয়াবহ ক্ষতি করার চেষ্টা চালায়।

যুদ্ধ চলাকালে ইরান আটক করে ২১ হাজার সন্দেহভাজনকে—যাদের অনেকের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানকে সতর্ক করে দ্রুত পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানায়। IAEA-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরান সফরের প্রস্তুতি নিলেও সরাসরি স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি পাননি।

যুদ্ধের শুরুর দিকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে থাকলেও শেষদিকে নেতানিয়াহু তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে যান। নিজের দেশেও পরিস্থিতি তার বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ায়—তেলআবিবের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে—“নেতানিয়াহু যুদ্ধের নামে গোটা দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন।”