ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের ‘মরণ পরিকল্পনা’! পশ্চিম তীরে নতুন বসতি গড়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রস্বপ্ন ধ্বংসের পথে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

ইসরায়েলের ‘মরণ পরিকল্পনা’! পশ্চিম তীরে নতুন বসতি গড়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রস্বপ্ন ধ্বংসের পথে

স্বাধীন ফিলিস্তিনের স্বপ্নে বড় আঘাত হানতে চলেছে ইসরায়েল! দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ ঘোষণা দিয়েছেন, পশ্চিম তীরে বহু বিতর্কিত “ই–ওয়ান” বসতি নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়—এই প্রকল্প “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে।”

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই-নেট জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্মতরিচ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন। তার সঙ্গে থাকবেন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ইসরায়েল গান্তজ ও মা’আলে আদুমিমের মেয়র গাই ইয়িফরাখ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মা’আলে আদুমিম এলাকায় তৈরি হবে ৩,৪০১টি নতুন আবাসিক ইউনিট। মানবাধিকার সংস্থা পিস নাউ বহু আগেই সতর্ক করেছিল—এই প্রকল্প কার্যকর হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হবে, আর রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যকার মহানগর বিকাশ থমকে যাবে। সংস্থাটি একে দুই রাষ্ট্র সমাধানের “কফিনে শেষ পেরেক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

যদিও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো হয়নি, স্মতরিচের দাবি—এবার প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত। তিনি খোলাখুলিভাবে বলেছেন, এই অঞ্চল ছাড়া পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব। তার মতে, এটি কেবল বসতি নির্মাণ নয়—এটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বপ্নকে দুর্বল করার অংশ।

“কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক চাপ ও প্রকল্প স্থগিতের পর আমরা মা’আলে আদুমিম ও জেরুজালেমের মধ্যে স্থায়ী সংযোগ স্থাপন করছি,” বলেন স্মতরিচ।

ইসরায়েলের ভেতরে এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বেনিয়ামিন আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান গান্তজ একে “বসতি স্থাপন আন্দোলনের ঐতিহাসিক সাফল্য” বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মা’আলে আদুমিমের মেয়র ইয়িফরাখও সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “ফিলিস্তিনিরা অবৈধ নির্মাণ করে এই এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, কিন্তু নতুন এই পাড়া গড়ে ওঠায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।