এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
ইরানে শুরু হয়েছে নীরব কিন্তু তীব্র ক্ষমতার লড়াই! ৮৬ বছরের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি টানা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে অনুপস্থিত। গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। চ্যালেঞ্জে ভরা ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব কে নেবেন—এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে।
যুদ্ধের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অসংখ্য কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস হয়, নিহত হন এক হাজারেরও বেশি মানুষ—যার মধ্যে ছিলেন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা। খামেনি তখন ছিলেন সুরক্ষিত বাংকারে, কিন্তু গোয়েন্দা সূত্র শত্রুপক্ষ তার অবস্থান জেনে ফেলেছিল। যদি সেই বাংকারে হামলা হতো, ইরানের নেতৃত্ব মুহূর্তে ধসে পড়ত।
এদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটন–তেলআবিবের দ্বন্দ্ব এখনও তীব্র। খামেনি এখনো এই ইস্যুর মূল চালকের আসনে থাকলেও শোনা যাচ্ছে, তিনি ভেতরে ভেতরে উত্তরসূরি বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো—তার ছেলে মুজতাবা খামেনির নাম এই তালিকায় নেই। বরং ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন তিনি।
১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি শাসক। ইসলামী বিপ্লবের প্রতীক থেকে এখন তিনি দেশে ও বিদেশে সমালোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইসরাইল যুদ্ধের সময় তার কৌশলগত ভুল ইরানের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এমনকি তার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়েতিও মত দিয়েছেন—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে খামেনির বয়সই বড় বাধা।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির সামনে এখন দুই সম্ভাবনা—
১. ক্ষমতায় থেকে ধীরে ধীরে দায়িত্ব হস্তান্তর করে সীমিত সংস্কার চালু করা।
২. আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব দেওয়া।
তবে বাস্তবতা হলো—ইরানে এখনো বড় একটি রক্ষণশীল গোষ্ঠী খামেনির প্রতি অনড় সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাই উত্তরসূরির রহস্য হয়তো এত সহজে উদঘাটিত হবে না।