ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় খাবারকে ‘অস্ত্র’ বানাল ইসরায়েল! শতাধিক এনজিওর ক্ষোভ, আটকে লাখো ডলারের ত্রাণ, মরছে মানুষ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম

গাজায় খাবারকে ‘অস্ত্র’ বানাল ইসরায়েল! শতাধিক এনজিওর ক্ষোভ, আটকে লাখো ডলারের ত্রাণ, মরছে মানুষ

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধ—এমনই অভিযোগ তুলেছে শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। খাবার, ওষুধ, পানি, এমনকি অস্থায়ী আশ্রয়বাহী ট্রাকও এখন জর্ডান ও মিসরের গুদামে আটকে আছে। এরই মধ্যে খাবারের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগে মারা যাচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনি।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এসব সংস্থা জানায়—ইসরায়েলের অবরোধই মূল বাধা। ২ মার্চের পর থেকে অধিকাংশ সংস্থা একটি ত্রাণবাহী ট্রাকও গাজায় পাঠাতে পারেনি। ইসরায়েল দাবি করলেও যে সহায়তা প্রবেশে কোনো বাধা নেই, বাস্তবে অনেক সংস্থার আবেদন সরাসরি ‘অনুমোদন নেই’ উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এবং অক্সফামের মতো দীর্ঘদিনের মানবিক সংস্থাগুলোকে নতুন নিবন্ধন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অজুহাতে ‘অননুমোদিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে শুধু খাবার নয়, গাজার হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট।

অক্সফামের পলিসি লিড বুশরা খালিদি জানিয়েছেন—তাদের ২৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সহায়তা গুদামে আটকে আছে। এমএসএফ-এর জরুরি সমন্বয়ক আইতোর জাবালগোগিয়াজকোয়ার অভিযোগ—ইসরায়েলি বাহিনী খাবারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, এমনকি ত্রাণ নিতে আসা ক্ষুধার্ত মানুষকেও গুলি করে হত্যা করছে। মে মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শুধু বিতর্কিত জিএইচএফ কেন্দ্রেই প্রাণ হারিয়েছে ৮৫৯ জন।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই ‘আমলাতান্ত্রিক বাধা’ এবং ‘ত্রাণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের নীতি’ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি—শর্তহীনভাবে জরুরি সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যে কোনো সংস্থা যদি ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক চরিত্র অস্বীকার করে বা তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়, তবে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

এই অভিযোগ এমন সময় উঠল, যখন ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে—এতে শহরের এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দক্ষিণের তথাকথিত ‘সংকুলান অঞ্চলে’ ঠেলে দেওয়া হতে পারে, যা মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।