এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
গাজার জায়তুন এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। মাত্র তিন দিনে ৩০০টিরও বেশি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, এটি শুধু হামলা নয়—গাজা দখলের পরিকল্পনারই অংশ।
"পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা"
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বুধবার জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের বাসস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে পাঁচতলা বা তার বেশি উঁচু ভবনগুলোকে টার্গেট করে ভারী বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে আশপাশের বাড়িগুলোও ধসে পড়েছে।
জীবন্ত মানুষসেই বাড়ি ধ্বংস!
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, কিছু বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে যখন সেখানকার বাসিন্দারা ভেতরে ছিলেন। এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, হামলার আগে বাসিন্দাদের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। তীব্র গোলাবর্ষণের কারণে উদ্ধারকর্মীরাও আহতদের সাহায্য করতে পারেননি।
৬১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু, গণহত্যার অভিযোগ
পরিসংখ্যানটা ভয়ঙ্কর—গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে ৬১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এছাড়া, ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।
কী হবে
গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সত্ত্বেও ইসরাইল তার হামলা বন্ধ করছে না। বিশ্ব এখন দেখছে, এই নৃশংসতার শেষ কোথায়?