এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
ইরান এক বিস্ফোরক দাবি করেছে—ইসরায়েলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গোপন নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, গত ১২ দিনে দেশজুড়ে অভিযানে ২১ হাজারের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অনেকেই মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল বলে অভিযোগ।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, মোসাদ তাদের ভেতরে একটি গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ করে। ১৩ জুন ইসরায়েল সরাসরি ইরানে বিমান হামলা চালানোর পরই স্পষ্ট হয়—দেশের ভেতরেই মোসাদের সহযোগীরা সক্রিয় ছিল। তবে এবার আর তারা ধরা এড়াতে পারেনি।
বড়সড় গ্রেপ্তারি অভিযান
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানজুড়ে চলা নিরাপত্তা অভিযানে বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চরবৃত্তিতে জড়িত ছিল। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অভিবাসীদের টার্গেট করেছিল মোসাদ?
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ অবৈধ অভিবাসী, বিশেষ করে আফগান নাগরিক। ইরানি পুলিশের তথ্যমতে, অন্তত ২,৭৭৪ জন অবৈধ অভিবাসী আটক হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬১ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোসাদ ইরানে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারে অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়েছে।
ভিডিও ধারণ ও তথ্য পাচার
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অনেকেই যুদ্ধ চলাকালে অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করছিল এবং সেগুলো বিদেশে পাঠাচ্ছিল। এ কারণে ১৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ভিডিও ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
নিরাপত্তা বাহিনী জনগণকে আহ্বান জানিয়েছিল—সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে তা যেন সঙ্গে সঙ্গে থানায় জানানো হয়। এই আহ্বানের পর অভিযোগের সংখ্যা প্রায় ৪১% বেড়ে যায়, যার ভিত্তিতেই বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়।
হাজারো মামলা তদন্তাধীন
বর্তমানে গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার অপরাধের অভিযোগে ৫৭,০০০-এর বেশি মামলা তদন্তাধীন। তবে আটককৃতদের মধ্যে কতজন প্রকৃত গুপ্তচর আর কতজন নির্দোষ—এ নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ব্যাপক গ্রেপ্তার দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আর এই ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উপর চাপ আরও বেড়ে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে।