ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

এইচ-১বি ভিসা ঝুঁকিতে? ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধাক্কার আশঙ্কা!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

এইচ-১বি ভিসা ঝুঁকিতে? ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধাক্কার আশঙ্কা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে উচ্চ বেতনপ্রাপ্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অর্থাৎ ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা বিদেশি গ্র্যাজুয়েট ও কম বেতনের চাকরিতে যুক্ত হতে ইচ্ছুকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

🔹 মূল পরিবর্তন কী আসছে?
বর্তমানে এই ভিসা লটারিভিত্তিক ব্যবস্থায় দেওয়া হয়, কিন্তু নতুন নিয়মে বেতনভিত্তিক অগ্রাধিকার আসতে পারে। এতে কম বেতনের পেশায় নিয়োজিত যেমন শিক্ষক, গবেষক বা এন্ট্রি-লেভেল কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

🔹 এইচ-১বি ভিসার বর্তমান অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর নতুন করে ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়, এর মধ্যে ২০ হাজার উন্নত ডিগ্রিধারীদের জন্য।

২০২৪ সালে নবায়নসহ মোট ৪ লাখ আবেদন অনুমোদন হয়েছে।

ভিসাধারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আইটি সেক্টরে কাজ করেন। সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী ভারতীয়, এরপর চীনা নাগরিক।

সাধারণত ভিসাটি ৩ বছরের জন্য বৈধ হয়, আরও ৩ বছরের জন্য নবায়নযোগ্য।

🔹 কারা লাভবান হবেন, কারা ক্ষতিগ্রস্ত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ বেতনের টেক কোম্পানি, বিশেষ করে এআই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। কিন্তু তরুণ বিদেশি গ্র্যাজুয়েটরা যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পেতে হিমশিম খাবে। আইনজীবী ম্যালকম গেশল মন্তব্য করেছেন—“উচ্চ বেতন স্কেলে ভিসা পাওয়া সহজ হলেও নিচের দিকে প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।”

🔹 শিক্ষক সংকট ও অভিবাসন বিতর্ক
শিক্ষক সংকট মেটাতে মিসিসিপি বা টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলো বিদেশি শিক্ষক আনার জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভর করেছে। আবার সমালোচকরা বলছেন, এই প্রোগ্রাম অপব্যবহার করে বড় করপোরেশনগুলো সস্তায় বিদেশি কর্মী এনে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে।

🔹 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

রিপাবলিকান নেতা লরা লুমার ও স্টিভ ব্যানন একে সরাসরি “প্রতারণা” বলেছেন।

ইলন মাস্ক, যিনি নিজেও একসময় এই ভিসাধারী ছিলেন, এটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম মনে করেন কিন্তু সংস্কারের পক্ষে।

ট্রাম্পও বলেছেন, “আমি এইচ-১বি ভিসার পক্ষে। বহুবার ব্যবহার করেছি, এটি দুর্দান্ত প্রোগ্রাম।”

অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সের দাবি, করপোরেশনগুলো এই ভিসার অপব্যবহার করে ধনী হচ্ছে, অথচ স্থানীয় কর্মীদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।