ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় নিহত ফুটবলার নিয়ে তোলপাড়! উয়েফা কি এবার ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করবে? শিশুদের জন্য মানবতার ডাক


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

গাজায় নিহত ফুটবলার নিয়ে তোলপাড়! উয়েফা কি এবার ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করবে? শিশুদের জন্য মানবতার ডাক

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের তথ্যে অন্তত ৫ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

এমন সংকটের মাঝেই উয়েফা গত বৃহস্পতিবার সাবেক ফিলিস্তিনি ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবাইদ এর মৃত্যু নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। তবে তারা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি।
লিভারপুল ও মিশরের তারকা মোহাম্মদ সালাহ উয়েফার পোস্ট শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন—“তিনি কীভাবে, কোথায় এবং কেন মারা গেলেন?”

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ওবাইদ দক্ষিণ গাজায় মানবিক সহায়তা দেওয়ার সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

শনিবার লিভারপুল-ক্রিস্টাল প্যালেস কমিউনিটি শিল্ড ম্যাচের সম্প্রচারে সাবেক মিশরীয় ফুটবলার মোহাম্মদ আবুত্রিকা সরাসরি ইসরায়েলকে নিন্দা জানান এবং ফিফা ও উয়েফাকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “ইসরায়েল ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ৪২০ জন ফুটবলার। ধ্বংস করেছে ১৪০টি ক্রীড়া অবকাঠামো। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা ও উয়েফা পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কখন থামানো হবে? আমরা শুধু কথা চাই না, চাই বাস্তব পদক্ষেপ।”

উয়েফা সাধারণত ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ সম্পাদক থিওডর থিওডোরিডিস বলেছিলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটও আলাদা।”

পিএসজি-টটেনহ্যাম সুপার কাপ ম্যাচের আগে উয়েফা মাঠে তুলেছিল একটি ব্যানার—“শিশু হত্যা বন্ধ করুন, বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করুন।” তবে সেখানে গাজা বা ফিলিস্তিনের নাম উল্লেখ ছিল না। উয়েফার এক কর্মকর্তা জানান, এটি রাজনৈতিক নয়, মানবতার বার্তা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ হাজার শিশু নিহত হয়েছে।

এছাড়া উয়েফা দুই ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিশুকে ম্যাচ-পরবর্তী মেডেল প্রদান অনুষ্ঠানে যুক্ত করেছে। তাদের শিশু ফাউন্ডেশন গাজার শিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে।

উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন বলেছেন, “যুদ্ধ চালানো প্রাপ্তবয়স্করা যা-ই ভাবুক, শিশুদের কোনো দোষ নেই। তারা প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই, যাতে তারা অন্তত কিছুটা শান্তি ও আশার মুহূর্ত পায়।”