ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

লেবাননে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি: “আমরা অস্ত্র ছাড়ব না, কারবালার মতো লড়াই হবে!” – সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ভাষণ দিলেন শেইখ কাসেম


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

লেবাননে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি: “আমরা অস্ত্র ছাড়ব না, কারবালার মতো লড়াই হবে!” – সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ভাষণ দিলেন শেইখ কাসেম

লেবাননে উত্তেজনা তুঙ্গে! শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বালবেকে আরবাঈন উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে হিজবুল্লাহর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল শেইখ নাইম কাসেম জানিয়ে দিলেন, “আমরা কখনোই অস্ত্র রাখব না!” সরকারের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনায় তিনি বলেন, লড়াই হবে কারবালার মতো—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই একমাত্র পথ।

সরকারের সিদ্ধান্তে চটেছেন শেইখ কাসেম

৫ আগস্ট, লেবাননের সরকার সিদ্ধান্ত নেয়—২০২৫ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত অস্ত্র সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শেইখ কাসেম বলেন, “এটা লেবাননের প্রতিরক্ষার খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার মতো। এতে শুধু প্রতিরোধ যোদ্ধা নয়, সাধারণ মানুষও বিপদের মুখে পড়বে।”

“এই ষড়যন্ত্র আমেরিকা-ইসরায়েলের”—সরকারকে সরাসরি সতর্কবার্তা

শেইখ কাসেম সরাসরি সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “তোমরা আমেরিকান-ইসরায়েলি পরিকল্পনায় কাজ করছো। লেবাননের ভেতরে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকে ধ্বংস করতে চাও।”
তার আরও হুঁশিয়ারি, “তোমরা যদি পিছিয়ে যাও, আমরা একাই লড়ব শত্রুর বিরুদ্ধে। তোমাদের দরকার নেই।”

“শহীদদের রক্ত থেকেই এসেছে প্রতিরোধের বৈধতা”

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই হিজবুল্লাহ তাদের অস্ত্র রাখবে বলে জানান শেইখ কাসেম। তার মতে, “প্রতিরোধ আন্দোলনের বৈধতা এসেছে শহীদদের রক্ত থেকে, কোনো মন্ত্রিসভার অনুমতি থেকে নয়।”

“ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইস্রায়েল’ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হবে”

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইস্রায়েল’ পরিকল্পনা নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন হিজবুল্লাহ নেতা। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কী? কী করছে তারা?”

সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান

শেইখ কাসেম জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী যেন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে না জড়ায়। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সম্মান নষ্ট করো না। এই বাহিনী দেশের গর্ব, একে রাজনৈতিক খেলায় ব্যবহার করো না।”

দায় সরকারের

শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট—ভূখণ্ড রক্ষা থেকে শুরু করে জনগণের নিরাপত্তা ব্যর্থতার পুরো দায় সরকারের। “আপনারাই দেশকে দুর্বল করেছেন,” বলেন তিনি।