এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ক্ষমতা দখলের চার বছর পূর্তি ঘটা করে উদযাপন করেছে। রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে দেশের নানা শহরে হয়েছে পতাকা মিছিল, আতশবাজি আর আনুষ্ঠানিক আয়োজন। এ বছর উদযাপনকে ঘিরে তালেবানের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে—কারণ, সম্প্রতি রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে তাদের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তালেবান আশা করছে, এবার আরও দেশ একই পথে হাঁটবে।
কাবুলে হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছিটিয়ে দেওয়া হয়, চারদিক ভরে যায় তালেবানের সাদা-কালো পতাকায়, যা ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানী দখলের প্রতীক হয়ে আছে। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে এক স্কয়ারে জড়ো হয়ে তালেবান সদস্যরা আতশবাজি ফোটায় ও পতাকা নাড়িয়ে উল্লাস করে। এই দূতাবাসই ছিল তাদের দীর্ঘ ২০ বছরের বিদ্রোহী লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীকী লক্ষ্যবস্তু।
তবে এবছর বাগরাম এয়ারবেসে কোনো সামরিক কুচকাওয়াজ হয়নি। তালেবান এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকলেও কূটনৈতিক অগ্রগতি
এখনও তালেবান সরকার আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে নারীদের জন্য কঠোর ইসলামী আইন বহাল রেখেছে তারা। নারীদের শিক্ষা, চাকরি, পার্ক, জিমে প্রবেশ, এমনকি পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ—সব কিছুতেই কড়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মহলে তাদের সমালোচনা বাড়ছে।
গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) তালেবানের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
তবুও জুলাইয়ের শুরুতে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি তালেবানের জন্য বড় কূটনৈতিক জয়। মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশ, চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যদিও সেসব দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও আলাপ চলছে। নরওয়ে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কাবুলে বৈঠক হয়েছে।
ভেতরের চ্যালেঞ্জ
দেশের ভেতরে কার্যত কোনো বড় ধরনের প্রতিরোধ নেই। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে প্রায় ৪০ লাখ আফগানের ফেরত আসা—এসবই এখন তালেবান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেছেন—তালেবানকে এখনই স্বাভাবিকীকরণ বা স্বীকৃতি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না।