এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ০২:০৮ পিএম
হাইতির দুর্বৃত্ত গ্যাং আর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার কাজ পেল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা। সম্প্রতি একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই হয়েছে, যার অধীনে এই সংস্থাটি হাইতির শক্তিশালী গ্যাংগুলোকে দমনের পাশাপাশি কর আদায়ের দায়িত্বও পেয়েছে।
খবরটি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। এই চুক্তির পেছনে রয়েছেন বিতর্কিত নিরাপত্তা সংস্থা ব্ল্যাকওয়াটারের প্রতিষ্ঠাতা এরিক প্রিন্স। তিনি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রিন্সের কোম্পানি ভেক্টাস গ্লোবাল-এর সঙ্গে হাইতির ১০ বছরের চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি হাইতির গ্যাংগুলোকে দমন করবে এবং কর আদায়ের ব্যবস্থাপনাও দেখবে।
প্রিন্স রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা পণ্যের কর আদায়ের সিস্টেম ডিজাইন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের মধ্যে গ্যাংগুলোর কাছ থেকে প্রধান সড়ক ও এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া। সফলতা তখনই মনে করব, যখন পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে ক্যাপ হাইশিয়ান পর্যন্ত কোনো গাড়ি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং গ্যাংগুলো আর গাড়ি থামাতে পারবে না।"
তবে, হাইতি সরকার ভেক্টাস গ্লোবালকে কত টাকা দেবে বা প্রিন্স কত কর আদায়ের আশা করছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হাইতির নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট সেইন্ট-সিরও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ভেক্টাস গ্লোবাল গত মার্চ থেকেই হাইতিতে কাজ শুরু করেছে। তারা ড্রোন ব্যবহার করে স্থানীয় টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে অগ্রসর হচ্ছে। রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কোম্পানিটি হাইতি পুলিশের সঙ্গে মিলে গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালাবে। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এল সালভাদর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শতাধিক স্নাইপার, গোয়েন্দা ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। এছাড়া হেলিকপ্টার ও নৌযানও ব্যবহার করা হবে।
এরিক প্রিন্স একজন সাবেক মার্কিন নেভি সিল। ১৯৯৭ সালে তিনি ব্ল্যাকওয়াটার প্রতিষ্ঠা করেন, যা ইরাক যুদ্ধের সময় বিতর্কিত হয়েছিল। ২০০৭ সালে বাগদাদের নিসুর স্কোয়ারে ১৪ জন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যার দায়ে ব্ল্যাকওয়াটারের কর্মীরা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রিন্স ২০১০ সালে কোম্পানিটি বিক্রি করে দেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই কর্মীদের ক্ষমা করে দেয়।