এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ০৩:০৮ পিএম
গাজার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বশির আবু আলশায়ের, বয়স ৪২। বহুদিন ধরে নিজের ক্যামেরায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ভয়াবহ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছিলেন তিনি। সাংবাদিকতাই ছিল তার একমাত্র জীবিকার পথ। কিন্তু ইসরায়েলি অবরোধ আর অমানবিক পরিস্থিতির কারণে এখন তার সন্তানরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।
অসহায় বশির শেষমেশ এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা তার জন্য কল্পনাতীত—প্রিয় ক্যামেরা বিক্রি করে সন্তানের জন্য রুটি জোগাড় করা। তিনি কণ্ঠ রুদ্ধ করে বলেন, “আমার পোস্ট কোনো প্রচারণা ছিল না; এটি ছিল এক ডুবে যাওয়া মানুষের শেষ চেষ্টা। ঘরে একটুকরো রুটিও অবশিষ্ট ছিল না। আমার কাছে ছিল শুধু এই ক্যামেরা।”
গাজায় বাড়ছে দুর্ভিক্ষ
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সেখানকার দুর্ভিক্ষ প্রতিদিনই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ লাখ ব্যাগ আটা প্রয়োজন, কিন্তু সরবরাহ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ জন মারা গেছেন, যার বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক। অপুষ্টি আর ক্ষুধাজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
সাংবাদিকদের সরঞ্জাম বিক্রি
বশিরের মতো আরও সাংবাদিক একই কষ্টের মুখোমুখি। সাংবাদিক আহমেদ আবদেল আজিজ বলেন, “গাজার পরিস্থিতি অবিশ্বাস্য। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছে। সহায়তা কেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত।” তিনিও নিজের পরিবারের খাবারের জন্য প্রিয় মাইক্রোফোন বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সেই অর্থে মাত্র দুদিনের খাবারই মিলেছিল।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ফটোসাংবাদিক ফাদি থাবেতও আর সন্তানদের খাওয়াতে পারছিলেন না। অবশেষে এক বস্তা আটার বিনিময়ে তিনি নিজের পুরো সাংবাদিকতা সংরক্ষণাগার বিক্রি করে দেন। ফাদি কষ্টভরা কণ্ঠে বলেন, “আমরা শুধু ক্ষুধায় ভুগছি না, আমাদের মর্যাদাও ভেঙে পড়ছে। জনগণকে অনাহারে রেখে ইচ্ছা ভাঙার এই নীতি স্পষ্ট। আমরা মৃত্যুকে নথিভুক্ত করি, তারপর নিজেরাই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ি।”
কঠিন বাস্তবতা
গাজার ভয়াবহ সংকট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কাড়লেও, বাস্তবতা এতটাই নির্মম যে বেঁচে থাকার জন্য সাংবাদিকরা নিজেদের সরঞ্জাম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে তারা মৃত্যুর ছবি তুলছেন, অন্যদিকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য লড়াই করছেন ক্ষুধার সঙ্গে।