এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
দখলদার ইসরায়েল গাজা পুরোপুরি দখল করার জন্য বৃহৎ সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনায় অন্তত এক লাখ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা অভিযানের জন্য ৮০ হাজার থেকে এক লাখ রিজার্ভ সেনা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে তীব্র সমালোচনা করছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির গাজা দখলের মূল কর্মপন্থা অনুমোদনের পর বিশাল সংখ্যক সেনা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই দখল অভিযান ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
গাজা সিটি দখলের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পাঁচ দফা নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নয়, বরং একটি বিকল্প বেসামরিক সরকার গঠন করা। প্রধানমন্ত্রী অফিস জানিয়েছে, সেনাবাহিনী সরাসরি গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেবে, যেখানে লাখো ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
কিন্তু এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৬১ হাজার ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে গণহত্যার শামিল বলে মনে করছে।
এর আগেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলাও চলছে।
সব মিলিয়ে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, আর ইসরায়েলের নতুন দখল পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে আরও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।