ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় নতুন রক্তঝরানো দিন: ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৫১, আহত ৩৬৯ – মৃতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬১ হাজার!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

গাজায় নতুন রক্তঝরানো দিন: ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৫১, আহত ৩৬৯ – মৃতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬১ হাজার!

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আবারও ভয়াবহ দিন কাটল। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৬৯ জন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

মৃত্যুর মিছিল থামছে না

অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬১,৮২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১,৫৫,২৭৫ জন। মন্ত্রণালয় জানায়, অনাহার ও অপুষ্টির কারণেও মানুষ মারা যাচ্ছেন। সর্বশেষ এক তরুণীর মৃত্যুতে এই সংখ্যা দাঁড়াল ২৪০ জনে, যাদের মধ্যে ১০৭ জন শিশু।

মানবিক সাহায্য নিতে গিয়েও নিহত!

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী এখন মানবিক সাহায্য নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরও টার্গেট করছে। গত একদিনেই এভাবে ১৭ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত শুধু সাহায্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১,৮৯৮ জন, আহত হয়েছেন আরও ১৪,১১৩ জন।

আগ্রাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরাইলি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হঠাৎ হামলা চালায়। ওইদিন নিহত হয় প্রায় ১,২০০ জন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাব দিতে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় ভয়াবহ অভিযান শুরু করে।

টানা ১৫ মাস পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মাসের মাথায়, ১৮ মার্চ থেকে আবারও পূর্ণাঙ্গ অভিযান শুরু করে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)।

বিশ্ব আদালতে ইসরাইল

গাজার হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলছে।

গাজার মানুষদের জন্য এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনো থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, বাড়ছে মানবিক সংকট।