এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে চীন সহায়তা করছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়োথ আরোনাথের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইরান-চীনের এই যৌথ উদ্যোগ ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও তেহরান বা বেইজিং এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা সহযোগিতায় ইরান ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো, বিশেষ করে ইউরোপীয় সংস্থাগুলো, সম্প্রতি তেহরান ও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার জানিয়েছেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সঞ্চয় ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা উদ্বেগজনক। আমাদের লক্ষ্য হলো তারা রাসায়নিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে না পারে।” তিনি আরও বলেছেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আমরা চাই না তারা এমন পক্ষের সঙ্গে কাজ করুক যা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।”
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানকে ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। ইরান এই চীনা সরবরাহের খরচ তার তেলের শিপমেন্ট দিয়ে মেটাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, প্রথম যুদ্ধে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রযুক্তিকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও মিডিয়ার সেন্সরশিপের কারণে সব তথ্য প্রকাশ করা যায়নি।
ইয়েদিয়োথ আরোনাথের প্রতিবেদন এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন যুদ্ধের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, তিনি সেনাবাহিনীকে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে ‘প্রয়োগ পরিকল্পনা’ প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ফরেন পলিসির বিশ্লেষণ মতে, ইসরায়েল সম্ভবত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগে আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পারে। বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, “পরবর্তী যুদ্ধ প্রথমটির তুলনায় অনেক বেশি প্রাণঘাতী হবে এবং ইরান প্রথম থেকেই সিদ্ধান্তমূলক আক্রমণ করতে পারে।