এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ সুদানে পুনর্বাসন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কর্মকর্তাদের আলোচনা চলছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। রয়টার্সের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন কর্মকর্তা এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
তবে তাদের মতে, এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কথিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে বহু বছরের রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় জর্জরিত দক্ষিণ সুদানে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
সূত্র জানায়, গত মাসে ইসরায়েল সফরে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানডে সেমায়া কুমবার সঙ্গে বৈঠকে এই সম্ভাব্য স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর প্রকাশিত হলে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। পরে শুক্রবার একই বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করেনি।
মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই খবর ছয়জন কর্মকর্তার বরাতে প্রথম প্রকাশ করে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও তাদের তরফ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে গাজায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত করেছেন। তিনি এ সপ্তাহে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় ভূমি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তবে আরবসহ অন্যান্য বৈশ্বিক নেতা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পিএলও-এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেছেন, “দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও পাঠানোর যে কোনও পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি নেতৃবৃন্দ ও জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে।” ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ও একই সুরে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেল দাবি করেছেন, দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে আলোচনায় গাজাবাসীর পুনর্বাসন বিষয়টি আলোচিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনা মূলত পররাষ্ট্রনীতি, বহুপাক্ষিক সংস্থা, দক্ষিণ সুদানের চলমান মানবিক সংকট এবং যুদ্ধ নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল।”
নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই একাধিকবার বলেছেন, গাজা ছাড়তে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে পুনর্বাসনের জন্য ইসরায়েল কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।