এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
ফিলিস্তিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সিনিয়র নেতা মারওয়ান বারগুতি। ফিলিস্তিনিদের কাছে তাকে বেশি পরিচিত ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে ইসরাইলি সেনাদের হাতে ধরা পড়েন এই নেতা। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত টানা ২৩ বছর কারাগারে।
দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি দিনের আলো দেখেননি, পরিবার ও প্রিয়জনের কাছ থেকেও বহু দূরে ছিলেন। চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবুও বারগুতি ভেঙে পড়েননি। বরং আরও দৃঢ় ও অটল হয়ে ওঠেছেন। অন্ধকার সেলে বসে গোপনে লিখেছেন বই, ডাক দিয়েছেন হাজারও বন্দির অনশন ধর্মঘটের, এবং কোটি ফিলিস্তিনির হৃদয়ে প্রজ্বলিত করেছেন প্রতিরোধের অমর প্রদীপ। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেলসন ম্যান্ডেলার মতোই, বারগুতিও হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার জীবন্ত প্রতীক।
বেশ কিছু বছর পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে বারগুতির একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তার সেলে ঢুকে হুমকি দিচ্ছেন। বারগুতি ফ্যাকাশে ও দুর্বল শরীরে, সাদা টি-শার্ট পরে বসে আছেন, প্রহরী ও ক্যামেরায় ঘেরা অবস্থায়। মন্ত্রী বলেন,
“তোমরা আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। যে-ই ইসরাইলের জনগণকে নিশানা করবে, আমাদের সন্তান ও নারীদের হত্যা করবে, তাকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।”
বারগুতি ১৯৫৯ সালের ৬ জুন রামাল্লার কোবার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেই বছরই প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী এবং সামাজিক গণতান্ত্রিক দল ফাতাহ। ১৯৭৪ সালে দলে যোগ দেন তিনি।
এক সশস্ত্র সংগঠনের সদস্য হওয়ার দায়ে ১৯৭৮ সালে প্রথমবার কারাগারে যান। টানা চার বছরের কারাভোগের সময় তিনি ইংরেজি ও হিব্রু ভাষা শিখেছেন এবং পড়াশোনায় এগিয়েছেন।
মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৮৩ সালে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করেন। এ সময় পরিচয় হয় আইনজীবী ফাদওয়া ইব্রাহিম এর সঙ্গে, যাকে ১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন।
১৯৮৭ সালে প্রথম ইন্তিফাদা (ফিলিস্তিনি গণআন্দোলন) নেতৃত্ব দেন এবং ফিলিস্তিন ও ফাতাহর মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেই বছরই জর্ডানে নির্বাসিত করা হয়। সাত বছর পর, ১৯৯৪ সালে অসলো চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, এবং ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।