ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় গণহত্যা চলছেই! ইসরায়েলের পক্ষে ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন, কেন মোদী সরকার নীরব থেকেও সমালোচনায় জর্জরিত?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম

গাজায় গণহত্যা চলছেই! ইসরায়েলের পক্ষে ভারতের প্রশ্নাতীত সমর্থন, কেন মোদী সরকার নীরব থেকেও সমালোচনায় জর্জরিত?

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ভয়াবহ গণহত্যা বিশ্বকে নাড়া দিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানাতে একটুও পিছপা হয়নি। এমনকি যখন পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ জনমতের চাপে অন্তত ইসরায়েলকে সমালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে, তখনো ভারত গর্বের সাথে তেল আবিবের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

মাশরেক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদী সরকারের মুসলিমবিরোধী নীতির সঙ্গে ইসরায়েলের গভীর সম্পর্ক জড়িত। ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফিলিস্তিনি অধিকারের সমর্থক রঞ্জন সুলেমান মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মোদী সরকারের এই অবস্থানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

গত এক দশকে ভারত ও ইসরায়েলের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক বহুগুণে বেড়েছে। ২০১৫ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ডলার, যা বর্তমানে বছরে ১৮৫০ কোটি ডলারেরও বেশি। ভারত এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা—ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা, এমনকি গাজায় পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রও কিনছে। ফলে ভারতের এই অস্ত্র আমদানি কার্যত ইসরায়েলের দখলদারিত্ব, ঘরবাড়ি ধ্বংস আর চলমান গণহত্যাকে পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছে।

গাজায় সরাসরি গণহত্যার সম্প্রচার

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৬১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। হাসপাতালগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে, ত্রাণ কনভয়ে হামলা চালানো হচ্ছে এবং খাদ্যাভাব সৃষ্টি করে মানুষকে অনাহারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কর্মকর্তা ক্রেগ মোখিবারসহ খ্যাতনামা আইনজীবীরা এটিকে “পরিকল্পিত গণহত্যা” বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের নীরবতা ও কঠোর দমননীতি

৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারী প্রথম বিশ্বনেতা ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এরপর থেকে ভারত সরকার গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণকে নিন্দা করতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিন সমর্থনে ভারতজুড়ে হওয়া বিক্ষোভগুলোও দমন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীদের বহিষ্কার, সাংবাদিকদের নজরদারিতে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। দিল্লি, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতেও মানবিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই আচরণের সাথে ইসরায়েলের দমননীতির অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

একসময় ভারত ইয়াসির আরাফাত নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিন আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক ছিল। কিন্তু এখন মোদী সরকারের অধীনে ভারত প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে গণহত্যা দেখেও চুপ করে আছে।

জনগণের কণ্ঠস্বর দমন

যদিও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে, ভারতের নাগরিক সমাজ নীরব থাকেনি। শিল্পীরা গাজার পক্ষে চিত্র আঁকছেন, আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে চিঠি দিচ্ছেন, শিক্ষকেরা সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন এবং মুসলিম সম্প্রদায় দেশজুড়ে দোয়া আয়োজন করছেন। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আইন (UAPA) ব্যবহার করছে, সোশ্যাল মিডিয়া সেন্সর করছে এবং প্রতিবাদকারীদের “দেশদ্রোহী” বলে চিহ্নিত করছে।

কেন ভারতকে তার অবস্থান বদলানো উচিত

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত নিজেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভুক্তভোগী ছিল। তাই উপনিবেশবিরোধী অবস্থান ধরে রাখা ভারতের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু আজ তারা গাজায় ইসরায়েলের বর্ণবাদী দমননীতির পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। গান্ধী-নেহেরুর উত্তরসূরি দাবি করলেও মোদী সরকার নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যায় কার্যত সহযোগী হয়ে উঠেছে।