এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
সৌদি আরব শুষ্ক মরুভূমিকে সবুজে রূপান্তর করার জন্য কৃত্রিম বৃষ্টি বা ক্লাউড সিডিং প্রকল্প চালু করেছে। প্রথম ধাপে রিয়াদ, কাসিম, হাইল, মক্কা, আল বাহা ও আসির অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লক্ষ্য হলো বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, মরুকরণ প্রতিরোধ, খরা মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন। ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ হবে।
সৌদি আরব এবার শুষ্ক মরুভূমি সবুজে রূপান্তরের জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটি কৃত্রিম বৃষ্টিপাত বা ক্লাউড সিডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন পানির উৎস তৈরি ও বনাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়।
রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সৌদি গেজেট জানিয়েছে, বিশেষায়িত বিমান দিয়ে পরিবেশবান্ধব উপাদান মেঘে ছড়িয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানো হচ্ছে। এতে মেঘের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে বৃষ্টিপাত দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্ভব হচ্ছে।
প্রথম ধাপে রিয়াদ, কাসিম, হাইল, মক্কা, আল বাহা ও আসির অঞ্চলে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পুরো রাজ্য জুড়েই প্রকল্পটি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, মরুকরণ রোধ, খরা মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনর্গঠন।
এই প্রকল্প সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর অংশ। গত বছর থেকে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি, উড়োজাহাজ ও জনবল দিয়ে জাতীয় সক্ষমতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
ক্লাউড সিডিং কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আইমান আল বার জানিয়েছেন, সৌদিতে প্রথম পরীক্ষামূলক ক্লাউড সিডিং হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। পরে ২০০৪ সালে আসির ও ২০০৬ সালে মধ্যাঞ্চলে গবেষণা চালানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সূচনা হয় ২০২২ সালে।
এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫২টি ফ্লাইটে ১,৮৭৯ ঘণ্টা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গবেষণার জন্য ৫১টি বিশেষ ফ্লাইটও করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযান চলতি আগস্টে রামাহ গভর্নরেটে পরিচালিত হয়, যেখানে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের উড্ডয়নে মেঘে পানির পরিমাণ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালে ক্লাউড সিডিং তুলনামূলক কঠিন। কারণ উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠান্ডা মেঘের সৃষ্টি কম হয়। তাই বিকল্পভাবে ক্লাউড বেস সিডিং ও ক্লাউড টপ সিডিং কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।