ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গৃহযুদ্ধের দেশে ভোট? মিয়ানমারের নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শঙ্কা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

গৃহযুদ্ধের দেশে ভোট? মিয়ানমারের নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শঙ্কা

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ১৭ দিন পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রথম ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। দেশটির ইউনিয়ন ইলেকশন কমিশনের এক বিবৃতিতে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর জান্তা ক্ষমতা দখল করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগারে আটক করে। তারপর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ চলেছে। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তীব্র গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারের অনেক অঞ্চল এখনও সেনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা গোষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব এলাকায় ভোট আয়োজন কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের পরিকল্পনাকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে জান্তা সরকারের দাবি, এই নির্বাচন হতে পারে সংঘাত নিরসনের উপায়। ভোটের আগে অস্ত্র সমর্পণকারী বিদ্রোহীদের জন্য নগদ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দেশটির বড় রাজনৈতিক দল এনএলডির নেত্রী অং সান সু চি এখনও কারাগারে আছেন। জনগণের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, নির্বাচন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলার বদলে জান্তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বহু সংসদ সদস্য ইতিমধ্যেই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি দল দেশব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে। ছয়টি দল অনুমোদন ও নিবন্ধনের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
জান্তা-বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বা অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। তাই নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর প্রক্সিদের আধিপত্য থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।