এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির প্রথম ডেপুটি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেন, জুনের যুদ্ধের পর এখন যে নীরবতা বিরাজ করছে তা আসলে কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, কেবল অস্থায়ী বিরতি।
আরোফের ভাষায়, “আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা কোনও চুক্তির অধীনে নেই, বরং শত্রুতার সাময়িক বিরতিতে আছি।”
জুন মাসে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। নিহত হন এক হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরাও ছিলেন। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েলে বহু মানুষকে হত্যা করে।
২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ায় এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এরপর লড়াই থেমে যায়, তবে তা কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ছিল না।
রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহইয়া রাহিম সাফাভিও বলেছিলেন, “আমরা এখনও যুদ্ধের অবস্থায় রয়েছি। যেকোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি ভেঙে পড়তে পারে। কোনো প্রোটোকল বা চুক্তি নেই।”
ইরান বলছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে নতুন কোনো আগ্রাসন হলে শক্তভাবে প্রতিরোধ করবে। এর মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে—যা তেহরান সবসময় অস্বীকার করে।
জাতিসংঘের আণবিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে—যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে অনুমোদিত সীমা থেকে অনেক বেশি। আর ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরান কর্মসূচি বাড়ালে আগের নিষেধাজ্ঞা ফেরানো হবে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে তারা এনপিটি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারে।