এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
ইউক্রেন ইস্যুতে বৈঠকের পর বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনে শান্তির জন্য মরিয়া হলেও, মস্কোর পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের কোনো তাড়া নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কয়েকদিনের মধ্যেই ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। শুধু ইউক্রেন-রাশিয়ার শীর্ষনেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি ট্রাম্প, বরং ইউরোপীয় নেতাদেরও হোয়াইট হাউসে নিয়ে আসেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বিশ্লেষক স্টিফেন কলিনসন জানিয়েছেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।”
বিশ্লেষকরা ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ন্যাটোর অনুরূপ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। তবে রাশিয়া তা মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
একটি বড় বিতর্ক হলো ভূমি বিনিময়। রাশিয়া চাইছে, সামরিকভাবে না জেতা এলাকা আলোচনার মাধ্যমে পেতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ইউক্রেনকে বাস্তবে তাদের জমি ছেড়ে দিতে হবে, যা নিহত সেনাদের পরিবারকে বোঝানো কঠিন হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষক সের্গেই রাদচেঙ্কো বলেছেন, “ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মরিয়া, তাই জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আড়াল করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু হুমকি-ধামকি কাজ করছে না, বরং বৈঠকের পর রাশিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে।
তিনি আরও বলেন, “এটা প্রথমবার নয়। ট্রাম্প পূর্বেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন, পরে সরে গেছেন। বৈঠকে কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তবে যদি শেষ পর্যন্ত শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি আনতে সক্ষম হন, তাহলে তাকে অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে।
রাদচেনঙ্কো মনে করেন, আলাস্কা সম্মেলনে পুতিনের উপস্থিতি ইউরোপীয়দের কাছে শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে: রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
তিনি যোগ করেন, “ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের সাক্ষাতের পর সন্দেহ রয়ে গেছে যে, তিনি আসলেই পশ্চিমা নিরাপত্তার পক্ষে নাকি এখনও পুতিনকে প্রশমিত করার কৌশলেই রয়েছেন।