এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত ও চীন। বেইজিং ও নয়াদিল্লির একাধিক বৈঠকে উঠে এসেছে ইতিবাচক বার্তা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত বিরোধ মেটাতে উভয় দেশই সম্মত হয়েছে নতুন পদক্ষেপ নিতে। এ সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন, মাসের শেষেই তিনি চীন সফরে যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সাত বছর পর মোদির চীন সফর
মোদি এবার প্রায় সাত বছর পর বেইজিং যাচ্ছেন। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সর্বশেষ তারা ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনে একসঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা
দুই দিনের ভারত সফরে ওয়াং ই প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে দিল্লিতে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৪তম বৈঠকে বসেন চীনের ওয়াং ই ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। বৈঠকে সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষজ্ঞ দল ও কার্যকরী দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
দোভাল বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় আছে। গত অক্টোবরে কাজানে যে বিষয়গুলোতে একমত হয়েছিলাম, তা থেকে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।” ওয়াং ই-ও মত দেন, “ভারত-চীনের সম্পর্ক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠতে হবে, প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়। সীমান্তে শান্তি বজায় থাকলেই স্থায়ী সুসম্পর্ক সম্ভব।”
মোদির সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ
মোদি এমন সময় চীন যাচ্ছেন, যখন একদিকে লাদাখের গালওয়ান সংঘর্ষের ক্ষত এখনো শুকোয়নি, অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মনে করিয়ে দেওয়া যায়, ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২০ ভারতীয় সেনা ও বেশ কয়েকজন চীনা সেনা। যদিও পরে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দুই দেশই একাধিক বৈঠক করে।
সম্প্রতি পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান মোকাবিলায় তারা চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। এর মধ্যেই ওয়াং ই পাকিস্তান সফরেও যাবেন, যা নয়াদিল্লির নজর কাড়ছে। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী, আমরা দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব চাই।”
বাণিজ্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ
শুধু সীমান্ত নয়, দুই দেশ এখন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করতে চাইছে। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, হিমাচলের শিপকি লা পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে আবারও সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। গালওয়ান সংঘর্ষ ও কোভিড মহামারির সময় থেকে এই রুটগুলো বন্ধ ছিল।
সব মিলিয়ে, আসন্ন মোদির চীন সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় বলা হচ্ছে। সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্য বাড়ানো—দুই দিক থেকেই এটি হতে পারে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।