এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাটসিনা রাজ্যে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। ফজরের নামাজ চলাকালীন সময়ে মসজিদকে টার্গেট করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। শুধু তাই নয়, গ্রামজুড়ে আগুন লাগিয়ে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনকে গুলি করে আর ২০ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। এছাড়া প্রায় ৬০ জন গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।
মসজিদে ঢুকে গুলি, তারপর গ্রামজুড়ে অগ্নিসংযোগ
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে কাটসিনা রাজ্যের মালুমফাশি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম উঙ্গুওয়ান মানতাউতে ঘটে এই হত্যাযজ্ঞ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা সশস্ত্র হামলাকারীরা প্রথমে মসজিদের ভেতরে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। পরে তারা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে এবং অগ্নিসংযোগ করে।
নৃশংসতার বর্ণনা দিলেন আইনপ্রণেতা
মালুমফাশির আইনপ্রণেতা আমিনু ইব্রাহিম জানান, বন্দুকধারীরা কমপক্ষে ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। আরও ২০ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তিনি একে ধারাবাহিক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন।
পুলিশের বক্তব্য
কাটসিনা পুলিশের মুখপাত্র আবুবকর সাদিক আলিউ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি গ্রামে বড় হামলা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে পালিয়ে আসা হামলাকারীরা মানতাউ গ্রামে প্রবেশ করে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই বেশ কয়েকটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের করুণ অভিজ্ঞতা
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহি বলেন, “ফজরের নামাজ চলাকালীন মসজিদের ভেতরেই গুলি শুরু হয়। আমার প্রতিবেশী নিহত হয়েছেন। আমি বেঁচে গেছি, কারণ তখনো বাসা থেকে বের হইনি।”
এদিকে এক হাসপাতাল কর্মকর্তা ফাতিমা আবাকার জানান, হাসপাতালে অন্তত ২৭ জনের মরদেহ আনা হয়েছিল। তবে অনেকে পরিবারের কাছে দাফনের জন্য লাশ নিয়ে গেছেন।
উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার বাড়তে থাকা সহিংসতা
গত কয়েক বছরে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ব্যাপক হারে বেড়েছে। স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গ্রাম ও সড়কে হামলা চালায়, অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করে এবং কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে আসছে।