ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিশরের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে হামাস ইতিমধ্যেই সম্মত হয়েছে, তবে ইসরায়েল সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফিলিস্তিনি উপত্যকায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মানবিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের ওপর প্রস্তাব গ্রহণের জন্য চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি মঙ্গলবার এই আহ্বান জানান একাধিক আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে ফোনালাপের সময়। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস এবং ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ-এর সঙ্গে আলাদা আলাদা আলাপচারিতায় বলেন, গাজার জন্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন, যা শুধু মানবিক নয়, আন্তর্জাতিক শান্তির জন্যও জরুরি।

চলতি সপ্তাহে কায়রোয় অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা ইসরায়েল ও হামাসকে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের শর্তে প্রথম পর্যায়ে কিছু বন্দি মুক্তি, সীমিত হামলা বিরতি এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। হামাস সোমবার জানিয়েছে, তারা ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। এর বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনকে কেন্দ্র করে, যুক্তরাজ্যের সাত শতাধিক ব্যবসায়ী নেতা একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ, অস্ত্র রফতানি স্থগিত এবং গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেছেন, চলমান হত্যাযজ্ঞ শুধু ফিলিস্তিন নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।
তবে বাস্তবতা খুবই ভয়াবহ। গাজার উত্তরাঞ্চলে মঙ্গলবার ১৯ আগস্ট ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলা খান ইউনিস ও দেইর-আল-বালাহ এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, গত ২২ মাস ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ৬২ হাজারের বেশি, যার মধ্যে অন্তত ১৮,৮৮৫ শিশু। এভাবে চলমান সংঘাতকে গণহত্যামূলক পরিস্থিতি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

মানবিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, চলমান সংকটের মধ্যে যদি যুদ্ধবিরতি স্থাপিত না হয়, তাহলে খাদ্য ও ওষুধের সংকট দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে, এবং গাজার বেসামরিক জনগণ বিশেষত শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য জীবনযাত্রা ক্রমশ অব্যাহতি হীন হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি গ্রহণে অনীহা দেখায়, তা শুধু ফিলিস্তিনের ওপর প্রভাব ফেলবে না, সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে নতুন সামরিক সংঘাত এড়ানো যায় এবং মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়।