এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
নয়াদিল্লিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত-কে চুল টেনে ও মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার, ২০ আগস্ট সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সিভিল লাইনসের বাসভবনে সাপ্তাহিক জনশুনানি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মুখ্যমন্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক যুবক রাজেশ সাক্রিয়া হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে একটি কাগজ দেয়ার নাম করে এগিয়ে যান। এরপরই তিনি চিৎকার করে গালিগালাজ শুরু করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর চুল টেনে ধরে চড় মারেন। এতে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ও মাথায় আঘাত লাগে।
নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হামলাকারীকে আটক করেন। তাকে হেফাজতে নিয়ে দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলাকারীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর আক্রমণ এবং কাজে বাধা দেওয়ার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজেশ সাক্রিয়া গুজরাটের রাজকোটের বাসিন্দা। তার মা ভানু জানিয়েছেন, রাজেশ একজন কুকুরপ্রেমী। সম্প্রতি দিল্লি-এনসিআরে বেওয়ারিশ কুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে বর্ণনা করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা আগে থেকে হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি বাসভবনে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং ভিডিও রেকর্ড করছেন। ভিডিওটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
রাজনৈতিক মহলে এই হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। দিল্লি BJP প্রধান বীরেন্দ্র সচদেব বলেছেন, জনশুনানির সময় একজন যুবক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসে কাগজপত্র দেখান এবং হাত টেনে ধরেন, হাতাহাতিও হয়। একই সঙ্গে কংগ্রেস ও Aam Aadmi Party বা AAP এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। AAP নেত্রী এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মার্লেনা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এই হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকলেও হিংসার কোনো জায়গা নেই। আশা করি, দিল্লি পুলিশ কড়াভাবে পদক্ষেপ করবে।