এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম
গাজায় ফের তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের আকস্মিক হামলায় একাধিক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। শুধু তাই নয়, তাদের গুলিতে ধ্বংস হয়েছে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধযান মেরকাভা ট্যাঙ্কের একজন অপারেটরও নিহত হয়েছেন।
আল-কাসসাম ব্রিগেডের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যোদ্ধারা বুধবার সকালে খান ইউনিসের কাছে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের ওপর টানা গোলাবর্ষণ চালায়। এতে বেশ কয়েকজন সেনা ‘খতম’ হয়। ব্রিগেডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা ইসরায়েলের দক্ষিণ গাজায় চলমান দখল অভিযানকে প্রতিহত করার অংশ।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা IDF বলছে, তারা এ হামলাটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলার সময় কমপক্ষে ১৮ জন বন্দুকধারী একযোগে খান ইউনিসের একটি সেনাঘাঁটিতে প্রবেশ করে। সেনাদের সঙ্গে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, এ ঘটনার পর সেনারা দ্রুত ওই এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক পাল্টা অভিযান শুরু করে। যদিও আল-কাসসামের দাবি অনুযায়ী, তারা কয়েকজন সেনাকে হত্যা করে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছে।
শুধু গাজা নয়, একইদিনে সিরিয়াতেও ইসরায়েলি বাহিনী বড় ধরনের বিপত্তির মুখে পড়ে। জাবাল শেখ এলাকায় পুরনো একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হয়েছে সাতজন ইসরায়েলি সৈন্য। স্থানীয় সূত্র বলছে, এটি ছিল সিরীয় সেনাদের ফেলে যাওয়া একটি পুরনো বোমা।
বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। সবাইকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে সাফেদের জিভ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল তার তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে ওই এলাকার আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সময় গোলান হাইটস অঞ্চলে উত্তেজনা ছিল চরমে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল গোলান হাইটস দখল করে রেখেছে। কিন্তু সিরিয়া এখনো এটিকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। ফলে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল সবসময়ই অস্থিতিশীল থাকে।
গাজার এ সংঘর্ষ এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের হতাহতের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও উদ্বেগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গাজার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।