এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
চোরাচালানের আড়ালে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভাঙার চেষ্টা করছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা শেংহুয়া ওয়েন। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়েন উত্তর কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে গোপনে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতেন। এর বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার।
ওয়েনের এই কর্মকাণ্ড নতুন নয়। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসায় প্রবেশের আগেই তিনি চীনে উত্তর কোরীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই তাকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়— উত্তর কোরিয়ার জন্য সামরিক সরঞ্জাম জোগাড় করতে হবে।
২০২২ সালে আবারও দুই উত্তর কোরীয় কর্মকর্তা অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র পাচারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। এরপর ওয়েন নানা কৌশলে অস্ত্র পাঠানো শুরু করেন। ২০২৩ সালে লং বিচ বন্দর থেকে অন্তত তিনটি কনটেইনার পাঠান তিনি। তবে রপ্তানি নথিতে অস্ত্রের পরিবর্তে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হত— যেমন, এক কনটেইনারে ফ্রিজ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল মারাত্মক অস্ত্র।
শুধু তাই নয়, উত্তর কোরিয়ার অর্থে তিনি টেক্সাসে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসা কিনে ফেলেন। সেখান থেকে অস্ত্র এনে ক্যালিফোর্নিয়া হয়ে উত্তর কোরিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল প্রায় ৬০ হাজার রাউন্ড ৯ মিমি গোলাবারুদ, রাসায়নিক হুমকি শনাক্তকারী ডিভাইস ও উন্নত হ্যান্ডহেল্ড রিসিভার পাচার করা।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ার ওপর অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ওয়েন সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং এক বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন।