এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ইহুদিবাদী প্রকল্প কখনোই শুধু ফিলিস্তিনে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রকল্পটির লক্ষ্য লেবাননেও সম্প্রসারণ করা। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা গঠনের আগেই ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননের এলাকা দখল করা, কৃষি উপনিবেশ গঠন করা এবং দেশের সীমান্ত অস্থিতিশীল করা।
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রাম, খামার ও অবকাঠামোতে আক্রমণের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে দেশান্তরিত বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়। ইসরায়েল এমনভাবে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা তৈরি করছে, যেখানে ধর্মীয় মতপার্থক্যকে উস্কে দিয়ে লেবাননে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়ানো হচ্ছে।
গত বছর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী লেবাননের জনগণকে খ্রিস্টান, সুন্নি, শিয়া ও দ্রুজ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, কখনো “লেবানিজ” শব্দ ব্যবহার করেননি। এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে একজাতীয় নাগরিক হিসেবে নয়, পৃথক ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে দেখতে প্রলুব্ধ করে।
ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদীরা এমন একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে যেখানে এক ধর্মের মানুষই পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলকে ছোট ও দুর্বল ধর্মীয় গোষ্ঠীতে বিভক্ত করতে চায়, যাতে তারা নিজেদের রক্ষা করতে না পারে এবং সম্পদ লুণ্ঠিত হয়।
লেবানন এবং বিশেষ করে খ্রিস্টানরা অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যেমন, সুদানের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছিল, যা দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পর খ্রিস্টানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইসরায়েলি দখলদাররা লেবানন ও সুদানের খ্রিস্টান সশস্ত্র গোষ্ঠী, সিরিয়ার “সুন্নি”, “ড্রুজ” এবং কুর্দি, আজারবাইজানের অন্যান্য গোষ্ঠীকে সমর্থন করেছে। এ ধরনের সমন্বয় ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজও অব্যাহত। সিরিয়ার গোলানি, আলাউইট, আলাভি ও দ্রুজ বা ড্রুজের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার লক্ষ্য দেশগুলোকে ছোট ও দুর্বল গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে ইসরায়েলের আধিপত্য নিশ্চিত করা।