এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
গাজার রক্ত ঝরানো নেতানিয়াহু এবার নাকি ইরানের পানির সমস্যা সমাধানে নামছেন! শুনতে যতটা অবিশ্বাস্য লাগছে, ঘটনাটাই তেমন। বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মানবতার ত্রাণকর্তা সাজাতে গিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তিনি ইরানি জনগণকে পানির সংকট থেকে রক্ষা করবেন।
নেতানিয়াহু এমনকি সতর্ক করেছেন, ইরানে পানির অভাবে কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। তিনি নাকি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সমস্যা সমাধানের ‘প্রস্তাব’ও দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—গাজার মাত্র সত্তর কিলোমিটার দূরে যখন শিশুরা তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে, তখন এই বড়সড় প্রতিশ্রুতির মানেটা কী? যে রাষ্ট্র নিজেই গাজার পানির লাইন কেটে দিয়েছে, তারাই আবার ইরানকে পানি বাঁচানোর শিক্ষা দিচ্ছে!
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য যখন ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন গাজার মানুষ দূষিত লবণাক্ত পানি খেতে বাধ্য। মাসের পর মাস সেখানে পরিষ্কার পানির কোনো প্রবাহ নেই। বোমা হামলায় ভেঙে পড়া পাইপলাইনের নিচে চাপা পড়ে গেছে শেষ আশাটুকুও। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ আর ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, পানি আর খাবারের সংকটে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তত ৩১৫ জন মারা গেছে, যাদের অর্ধেকই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
এই পরিস্থিতি কোনো দুর্ঘটনা নয়—বরং পরিকল্পিত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন: “বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, জ্বালানি নেই, সবকিছু বন্ধ।” এরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় পানি সংস্থা মেকোরোট, যেটি প্রতিদিন গাজায় প্রায় ১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করত। আর তাতেই বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের একটিতে মানবসৃষ্ট খরা তৈরি হয়েছে।